২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | সকাল ৮:৫৮
সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
খবরটি শেয়ার করুন:
187

মুন্সিগঞ্জ, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

সাবেক রাষ্ট্রপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার।

২০১২ সালের এই দিনে ৮১ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যাংককের বামুনগাদ হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

দিনটি উপলক্ষে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মুন্সিগঞ্জের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি মুন্সিগঞ্জ সদরের নয়াগাঁও গ্রামে ১৯৩১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্ম গ্রহন করেন। শিক্ষায় অবদানের জন্য ১৯৯৫ সালে ভাষা সৈনিক প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

১৯৪৮ সালে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ শহরের মুন্সিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাশ করেন এবং ১৯৫০ সালে হরগঙ্গা কলেজ থেকে ইন্টারমেডিয়েট পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫০ ও ১৯৫২ সালে যথাক্রমে বি.এস.সি ও এম.এস.সি পাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকোন্সিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে যথাক্রমে এম.এস. ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

মুন্সিগঞ্জে তার প্রাথমিক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন সম্পন্ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ে তিনি ঢাকায় যান। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজের অর্জনে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুরের এক গর্বিত সন্তান। তার পিতার নাম মৌলভি মুহাম্মদ ইব্রাহিম। অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের স্ত্রী অধ্যাপিকা আনোয়-ারা বেগম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা, বিভাগীয় প্রধান ও শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট ছিলেন। প্রয়াত আনোয়ারা বেগম অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভিসি ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রিধারী ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর ১২৫টি গবেষণামূলক প্রকাশনা রয়েছে। দেশের শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব পালন ছাড়াও রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেও দেশের নানা গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়র মঞ্জুরি কমিশনের সফল চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯১ সালের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের খাদ্য ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ধান গাছের উপর লবণাক্ততার প্রভাব ও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে উচ্চ ফলনশীল ধান নিয়ে সফল গবেষণা করেন। তিনি উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান মাটিতে জমা করে রাখা এবং তা প্রয়োজন মত উদ্ভিদকে সরবরাহ করার পদ্ধতির উপর সফল গবেষণা চালান। এই কাজের ফলে যুক্তরাজ্যে তিনি ব্যাপক সাড়া জাগান। অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তাঁর শিক্ষকতা জীবনে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮৩ সালে যুক্তরাজ্যের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৮৪ সালে বার্লিনে জার্মান টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও জার্মানের গ্যাটিঞ্জেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছিলেন।

২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে বিএনপি সরকারের শাসনামলে জাতীয় সংসদের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ বছর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে নানা ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করেন। প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় কিছুদিন তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানেরও দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক চরম সঙ্কটে দেশে জরুরি অবস্থা জারিসহ নানা ঘটনা ঘটে।

তিনি ঢাকার বানানীতে অতীশ দিপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মুন্সিগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ।