২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | সকাল ৮:৩২
সাক্ষাৎকার: মুন্সিগঞ্জ ১ আসনে ‘গরিবের এমপি’ হতে চান আব্দুর রহমান
খবরটি শেয়ার করুন:
450

মুন্সিগঞ্জ, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) সংসদীয় আসন থেকে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কাস্তে মার্কার মনোনয়ন পেয়েছেন শ্রীনগরের ভাগ্যকুলের সন্তান অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান। আসন্ন ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন- ২০২৬’ নিয়ে তার ভাবনা জানতে চেয়েছে ‘আমার বিক্রমপুর’। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আমাদের প্রতিবেদক সাইফুল মৃধা।

  • আপনার ব্যক্তিগত পরিচয় জানতে চাই

আমি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানাধীন ভাগ্যকুল গ্রামের সন্তান। এখানেই জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। আমি ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি, শ্রীনগর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকার মিরপুরে প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সদস্য। শিক্ষাজীবনে ‘বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন’ সংগঠনের মাধ্যমে মানবিক ও বৈষম্যবিরোধী চিন্তার চর্চা শুরু হয়। আইন পেশায় যুক্ত হয়ে অসহায় মানুষের ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করার পাশাপাশি পাঠাগার আন্দোলন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, স্কুল–কলেজে বিতর্ক আয়োজনসহ নানা ধরনের সামাজিক কাজ করেছি। এসব কিছু করেছি কেননা সমাজকে জ্ঞানভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক পথে এগিয়ে নিতেই আমার পেশাগত ও সামাজিক প্রতিজ্ঞা।

  • মুন্সিগঞ্জ-১ আসন থেকে আপনি কেন নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন?

আমরা মুন্সিগঞ্জ নিয়ে কথা বললেই প্রাচীন ঐতিহ্যের কথা বলি। এই মাটির বিখ্যাত মানুষ আচার্য অতীশ দীপঙ্কর, স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, সাহিত্যিক মানিক বন্দোপাধ্যায়, সরোজিনী নাইডু, সাতারু ব্রজেন দাসসহ নানা গুণীদের কথা বলি। অতীতের সমৃদ্ধ ইতিহাস নিয়ে গর্ব করি। কিন্তু বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ প্রায় সকল ক্ষেত্রেই জেলা শহর হিসেবে অনেকটাই পিছিয়ে। মুন্সিগঞ্জ–১ আসনের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অনুন্নয়ন ও অবহেলা আমাকে ভাবিয়েছে। এখানকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, কৃষি খাতসহ সব ক্ষেত্রে পরিবর্তনের বড় চাহিদা রয়েছে। তাই আমি মুন্সিগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনে গণমানুষের হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।

  • ২০২৪ এর ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান সময়কালে আপনার ভূমিকা জানতে চাই?

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন আমাদের দেশের ইতিহাসে একটি মুক্তির অধ্যায়। এতে ছাত্ররা নেতৃত্ব দিয়েছে, আর জনতা তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছে। আমি একজন আইনজীবী হিসেবে অন্যায়ভাবে আটক ছাত্র–যুবকদের পক্ষে আইনি সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করেছি। আদালতে দাঁড়িয়েছি, তাদের আইনি সহায়তা করেছি। বিগত বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মাঠে আমি নিয়মিতভাবে স্বৈরতন্ত্র, নিবর্তনমূলক আইন ও আটকের বিরুদ্ধে কথা বলেছি।

  • এমপি হিসেবে নির্বাচিত হলে মুন্সিগঞ্জ–১ (শ্রীনগর–সিরাজদিখান) আসনের জন্য আপনার মৌলিক পরিকল্পনা কী?

নির্বাচিত হলে আমি বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তনের উপর গুরুত্ব দেবো। যেমন- স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কার্যকর পরিবর্তন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও ওষুধ সংকট দূর করা, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো কার্যকর করা, প্রত্যন্ত এলাকায় স্মার্ট স্কুল ও লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা, কৃষক-শ্রমিক ও যুবকদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি, মাদকবিরোধী কার্যকর কমিউনিটি উদ্যোগ, শ্রীনগর-সিরাজদিখান থেকে জেলা সদর ও ঢাকার গণপরিবহনের সংকট সমাধানসহ নানামুখী সামাজিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প।

  • “আব্দুর রহমান গরিবের এমপি হবে”- এমন কথা শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন?

আমি এটিকে সম্মান হিসেবে দেখি। কারণ একজন এমপির সর্বপ্রথম দায়িত্ব হলো গরিব, শ্রমজীবী, কৃষক, শিক্ষার্থী অর্থাৎ যাদের কণ্ঠ সংসদ পর্যন্ত পৌঁছে না তাদের কথা বলা। আমি কখনো এলিট রাজনীতির অংশ ছিলাম না; ক্ষমতার অংশ ছিলাম না। সবসময় ক্ষমতার বিরুদ্ধেই বলেছি। আমার রাজনীতি হবে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা, সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা। আমার পক্ষ একটাই সেটি হল মানুষ।