১১ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
বৃহস্পতিবার | সকাল ৯:৫৫
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে চান ‘স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ’ মোশারফ হোসেন পুস্তি
খবরটি শেয়ার করুন:
291

মুন্সিগঞ্জ, ১০ নভেম্বর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে (মুন্সিগঞ্জ সদর-গজারিয়া) বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নাম এসেছে জেলার অন্যতম স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক মোশারফ হোসেন পুস্তির। সদ্য ঘোষিত জেলা বিএনপির ৫৯ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিতে তাকে সদস্য করা হয়েছে।

দলের নিবেদিতপ্রাণ এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে জেলা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল পর্যায়ে তার জনপ্রিয়তা এবং দীর্ঘ ব্যবসায়িক ও সামাজিক অভিজ্ঞতাই তাকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় এনেছে।

বহুমাত্রিক ভূমিকা ও অভিজ্ঞতার কারণে মোশারফ হোসেন এখন শুধু একজন শিল্পোদ্যোক্তা নন, বরং রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রে। দল তাকে মনোনয়ন দেবে কি না-তা সময়ই বলে দেবে। তবে তৃণমূলের প্রত্যাশা, বিএনপি যদি মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে নতুন নেতৃত্বের সন্ধান করে, তাহলে সেই তালিকার অন্যতম শীর্ষে থাকবেন স্বচ্ছ রাজনীতিবীদ মোশারফ হোসেন পুস্তি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমি সব ধরনের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সবসময় মুন্সিগঞ্জের মানুষের পাশে থেকেছি। দলের প্রতি আমার ত্যাগ, নিষ্ঠা এবং দলের কঠিন সময়ে পাশে থাকার ইতিহাস রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ধানের শীষ প্রতীকে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মনোনয়ন পেলে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করব। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে চাই।’

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে মোশারফ হোসেনের অন্তর্ভুক্তিতে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জেলা বিএনপির রাজনীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রেখে আসছেন মোশারফ।

মোশারফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৮ সালে তিনি এক দুঃসময় পার করেন। তার পরিবারের দাবি, ওই সময় ডিজিএফআই ও র‍্যাবের সদস্যদের হাতে আটক ও নির্যাতনের শিকার হন মোশারফ হোসেন। এক মাসেরও বেশি সময় স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয় তাকে। তাদের অভিযোগ-তাকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এর আগেও ২০১৪ সালে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়ী হলেও পরবর্তীতে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে তার বিরুদ্ধে রায় আসে। এরপর তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ওপরও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হয় বলে জানা যায়। তবে সেই সময়ের সংকট কাটিয়ে ওঠে তিনি আবারও অর্থনীতি ও জনকল্যাণমূলক কাজে মনোযোগী হন।

১৯৮০ সাল থেকে আমদানি–রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত মোশারফ হোসেন এখন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের একজন হিসেবে পরিচিত। তিনি মোশারফ গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান।

তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে: মোশারফ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, অরবিট টেক্সটাইল মিলস, ও এন স্পিনিং মিলস, পানামা কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস, কন্টিনেন্টাল স্পিনিং মিলস, এম এন ডায়িং প্রিন্টিং অ্যান্ড ওয়াশিং মিলস, মোশারফ অ্যাপারেলস স্টুডিও, ক্রাউন টুইস্টিং অ্যান্ড নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ, আবির এগ্রো লিমিটেড, আবির ফিড মিলস, আবির পোল্ট্রি হ্যাচারি অ্যান্ড প্রসেস লিমিটেডসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া তিনি পরিচালনা করছেন আসুকেম লিমিটেড, মেসার্স মোশারফ অ্যান্ড ব্রাদার্স, এম এন এন্টারপ্রাইজ, নাজনীন এন্টারপ্রাইজ, মিলেনিয়াম এন্টারপ্রাইজ, সোনালী এন্টারপ্রাইজ, এনএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আবির এন্টারপ্রাইজ, আবির আইটি লিমিটেড, এমজি হোল্ডিংস লিমিটেড এবং নিবিড় ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডসহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

তার মালিকানাধীন হিমাগারগুলোর মধ্যে রয়েছে-আবির এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ, নাটোর কোল্ড স্টোরেজ, একতা কোল্ড স্টোরেজ এবং সিলিমপুর কোল্ড স্টোরেজ। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ হাজার কর্মচারী কাজ করছেন, যাদের পরিবারসহ প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর।

সফল শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে মোশারফ হোসেনের অর্জনের তালিকাও দীর্ঘ। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পরপর তিন বছর সরকার কর্তৃক জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ও সনদ পেয়েছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাকে সিআইপি (Commercially Important Person) মর্যাদায় ভূষিত করে।

এ ছাড়া পেয়েছেন-ঢাকা প্রেসক্লাব পদক ২০১০, তিউনিশিয়া স্বাধীনতা অর্ধশতবর্ষ ক্রেস্ট, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ সম্মাননা, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন স্মারক সম্মাননা, ২০১১ সালে রামপাল এম.বি.এন. উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায়িক সম্মাননা, ২০১২ সালে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের শ্রেষ্ঠ আমদানিকারক পুরস্কার

রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবায়ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। রামপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দক্ষতা ও সেবার জন্য ২০১০ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক। পাশাপাশি তিনি যুক্ত আছেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, এফবিসিসিআই, মুন্সিগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স (ভাইস প্রেসিডেন্ট), রামপাল মহাবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, আল হাকিমুল উলুম কওমি মাদ্রাসা (সভাপতি) ও রামপাল গণপাঠাগারের নির্বাহী কমিটিতে।

তিনি রামপাল মহাবিদ্যালয়, বিক্রমপুর সমিতি, গুলশান ক্লাব, ঢাকা ক্লাব এবং বারিধারা ক্লাবেরও আজীবন সদস্য।

মোশারফ হোসেন মুন্সিগঞ্জ জেলার রামপাল ইউনিয়নের পশ্চিম দেউসার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে তিনি নিয়মিত সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেন এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে থাকেন।

তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দেশের টেক্সটাইল, কৃষি ও রপ্তানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

দলীয় একটি সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক ত্যাগের ইতিহাসের কারণে মোশারফ হোসেনকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে একটি ‘যোগ্য বিকল্প’ হিসেবে দেখা হচ্ছে’।

বিএনপি নেতারা বলছেন, ‘তিনি অর্থনৈতিকভাবে যেমন শক্তিশালী, তেমনি সাংগঠনিকভাবে সক্রিয়। তার অংশগ্রহণে জেলার রাজনীতিতে নতুন গতি আসবে।’