মুন্সিগঞ্জে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা মিজানুরকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত
মুন্সিগঞ্জ, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমানকে ঘুষ গ্রহণ, নানা অনিয়ম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘটনায় এবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার শরীয়তপুরে বদলির আদেশও বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আদেশে বরখাস্তের কারণ হিসেবে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে গত ১১ মার্চ বিভিন্ন জাতীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় অফিস চলাকালে অর্থ লেনদেনের ভিডিও ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে গত ১৯ এপ্রিল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
এছাড়া গত ২৪ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জ সফরকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ ও ক্ষোভের কথা জানতে পারেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
ঢাকা বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “প্রথমে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে ডিজি স্যার ও মন্ত্রী মহোদয় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাই বদলি বাতিল করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপে মুন্সিগঞ্জের সাংবাদিক মহলে স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, তার অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতির অভিযোগও তদন্ত করে দেখার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সচেতন মহলের অনেকে বলছেন, একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। তারা মনে করেন, শুধু মুন্সিগঞ্জ নয়, সারাদেশেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদনে মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মো. মিজানুর রহমানের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও প্রকাশ পায়। পরদিন স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলাজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। পরে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। এর প্রতিবাদে মুন্সিগঞ্জে সাংবাদিকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে প্রশাসনকে আলটিমেটাম দেন। পরে গত বুধবার তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করেন।
এরপর গত শুক্রবার স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হঠাৎ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।




