মুন্সিগঞ্জে ফসলি জমির মাটি লুটের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন
মুন্সিগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভাধীন ইছামতি নদীর তীরঘেঁষা সরকারি খতিয়ানের ফসলি জমির মাটি কেটে লুট করার ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দাখিল করা হয়েছে।
রোববার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির জাহান স্বাক্ষরিত দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে ইছামতি নদীর তীরের ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার চিহ্ন ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমনকি মাটি কেটে লুট করায় ইছামতি নদীর তীরের ফসলি জমিতে থাকা একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। যে কোনো সময় খুঁটিগুলো পড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাটি লুটের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তরা মিরকাদিম পৌরসভার মেয়রের ঘনিষ্ঠ লোক বলে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় বলেও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, এক সপ্তাহ ধরে ভোররাত ৪টা থেকে দুই থেকে আড়াই শতাধিক শ্রমিক সুধারচর এলাকার ফসলি জমির মাটি কাটা শুরু করে। পরে সকাল ৮টার দিকে তারা ট্রলারে ভরে মাটি নিয়ে চলে যায়। ফতুল্লার ধর্মগঞ্জের একাধিক ইটভাটায় এ মাটি বিক্রি করে ট্রলারপ্রতি ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মিরকাদিম পৌরমেয়র মো. শহীদুল ইসলাম শাহীনের ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত একদল দুর্বৃত্ত।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির জাহান জানান, মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভাধীন ইছামতি নদীর তীরঘেঁষা ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা। তার নির্দেশনা পেয়ে বৃহস্পতিবার পুলিশের দল নিয়ে সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তারা সেখানে যাওয়ার আগেও মাটি কেটেছে দুর্বৃত্তরা- এমন চিহ্ন প্রত্যক্ষ করলেও জড়িতদের ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের এ কর্মকর্তা আরও জানান, ইমামচর মৌজার সুধারচর এলাকার মাটি কেটে নেওয়া ফসলি জমিগুলো সরকারি এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত। দুর্বৃত্তরা ৭০ থেকে ৮০ হাজার ঘনমিটার মাটি কেটে লুট করে নিয়ে গেছে। এমনভাবে মাটি কাটা হয়েছে, সেখানে থাকা একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি এখন ঝুঁকিতে রয়েছে। যে কোনো সময় বিদ্যুতের খুঁটিগুলো পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারি মাটি কেটে লুটের সঙ্গে জড়িতরা মেয়রের লোক বলে স্থানীয়দের বরাতে তা উল্লেখ করে গতকাল রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা পেলেই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন জানান, মাটি কাটায় জড়িতদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করতেই প্রতিপক্ষ মাটি লুট করে তার নাম বলেছে।








