মুন্সিগঞ্জে পদত্যাগ করা স্বপনের সাথে বিএনপি’র কোন সম্পর্ক নেই: কেন্দ্রীয় দপ্তর
মুন্সিগঞ্জ, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ শহর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহবুব উল আলম স্বপনের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির বর্তমানে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ BNP Media Cell থেকে ছবিসহ প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংযুক্ত ছবিতে চিহ্নিত ব্যক্তি মুন্সিগঞ্জ শহর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহবুব আলম স্বপন। তিনি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্বপন অসাবধানতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ছবি তুলেছেন। তবে ওই ছবির সূত্র ধরে তার সঙ্গে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন ধারণা না করতে সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বিএনপি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘মূলত: তার সাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কোন ধরণের সম্পর্ক নেই।’
এর আগে দলীয় পরিচয় ও পদবি ব্যবহার করে একটি চিঠি দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বপনের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মামলা হয়। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) শহর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান বকুল বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যালি, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি চেয়ে গত ৩০ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনে বিএনপির দলীয় প্যাড ব্যবহার এবং মাহবুব উল আলম স্বপন নিজেকে ‘শহর বিএনপির সদস্য সচিব’ হিসেবে পরিচয় দেন।
অভিযোগকারীর দাবি, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মাহবুব উল আলম স্বপনসহ কয়েকজনকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
তবে পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বপনসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিটের ১৫ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার সংক্রান্ত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের ওই চিঠিটি বানোয়াট ও ভুয়া।
এদিকে, মামলায় জামিন পাওয়ার পর সোমবার দুপুরে আমলি আদালত-১-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দুর্দানা রহমানের আদালত থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বপন। সে সময় তিনি দাবি করেন, ‘আমি আগেও মুন্সিগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ছিলাম এবং আজকে পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব। এর আগে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে মর্মে যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়েছিল সেটি ভুয়া।’
জামিনের পর তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিপক্ষ না। একই মায়ের দুই ভাই। যার প্ররোচনায় এই মামলাটি হয়েছে আল্লাহ তাকে হেদায়েত করুন।’
তবে একই দিনে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত নতুন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বপনের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দেওয়া বক্তব্য তার ওই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি করেছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্বপন ধানের শীষের বিপরীতে ফুটবল প্রতীকের সমর্থকদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কথা অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছিলেন। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি তিনি দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সাল থেকে মুন্সিগঞ্জ শহর বিএনপির সদস্য সচিবের দায়িত্বে ছিলেন মাহবুব উল আলম স্বপন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জেলা বিএনপির তৎকালীন সদস্য সচিব (পরে বহিষ্কৃত) মো. মহিউদ্দিনের পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। একপর্যায়ে ২৮ জানুয়ারি স্বপনসহ জেলা কমিটির আরও তিন শীর্ষ নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
নির্বাচনে মহিউদ্দিন পরাজিত হওয়ার পর তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত বিএনপির ওই অংশটি সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
সোমবার স্বপনের জামিনের শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে তার সঙ্গে জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন, জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মুহাম্মদ মাসুদ রানাসহ দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এমন পরিস্থিতিতে একই দিনে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে স্বপনের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দেওয়া বক্তব্য স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।








