১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
বুধবার | রাত ১২:৪২
মুন্সিগঞ্জে দেশের প্রথম ‘বঙ্গীয় গ্রন্থ জাদুঘর’ এর যাত্রা শুরু
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুরে যাত্রা শুরু করল দেশের প্রথম ‘বঙ্গীয় গ্রন্থ জাদুঘর’। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল অব্দুল মুহিত শুক্রবার দুপুরে লৌহজংয়ের কনকসারে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন এই গ্রন্থ জাদুঘর ছাড়াও এই সময়র ‘আবদুল জব্বার খান মুক্ত মঞ্চ’ এবং মঞ্চটির উপরে আরো তিন তলা ভবনে জাদুঘরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এল আকৃতির বিশাল একতলা টিন শেডের এই জাদুঘরে ২০ হাজার বই এবং প্রাচীন পান্ডুলিপি ও পুথিসহ নানা দূর্লভ বই স্থান পেয়েছে। পরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় মুক্ত মঞ্চটতে।

প্রধান অতিথির ভাষণে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় অগ্রগতি শুধু অর্থনীতিই নয়। সেখানে নানান কিছুর প্রয়োজন রয়েছে। তার মধ্যে সংস্কৃতি ও পাবলিক লাইব্রেরি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশে পাবলিক লাইব্রেরির অভাব রয়েছে। এসব পাবলিক লাইব্রেরির জন্য অনেক সুযোগ সুবিধারও অভাব রয়েছে। তার পরেও এটিকে এগিয়ে নিতে হবে। সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে বেশি বেশি পাবলিক লাইব্রেরী করা প্রয়োজন।

ব্র্যাকের কিশোর-কিশোরী পাবলিক লাইব্রেরির উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পাবলিক লাইব্রেরি আন্দোলন ছড়িয়ে পরার অপেক্ষায় রয়েছি। মন্ত্রী আরো বলেন, গ্রন্থ জাদুঘর ব্যতিক্রম একটি বিষয়। এ থেকেও জ্ঞান চর্চা ও গবেষণা প্রসারিত হবে। এ জাদুঘরের প্রাচীন পুস্তুক স্থান পেয়েছে, যা সবখানে পাওয়া সম্ভব নয়।

মন্ত্রী মুন্সীগঞ্জ জেলাকে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর জেলা করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জ জেলার সাথে ‘বিক্রমপুর যুক্ত হলে সকলেই গর্বিত হব। আমি এই মতের সাথে একমত। ইতিহাসের ধারক বিক্রমপুরের নাম ধরে রাখা উচিৎ।’

এর আগে অনুষ্ঠানে কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বিক্রমপুরের প্রসিদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরে জেলার নামের সাথে বিক্রমপুর যুক্ত করার প্রস্তাবটি প্রধান অতিথিকে লক্ষ্য করে উত্থাপন করেন।

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল আলম লেনিনের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহাবুবে আলম, বিশিষ্ট স্থপতি কবি রবিউল হুসাইন, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ফজলে আজিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম, উপজেলা চেয়ারম্যান ওসমান গনি তালুকদার, প্রকৌশলী ঢালী আবদুল জলিল, ইনটেরিয়ার ডিজাইনার নাজনীন হক মিমি, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান শায়ক, প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল জাব্বার খানের পুত্র ইসমাত হায়াত খান ও আগ্রসর বিক্রমপুরের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

অগ্রসর বিক্রমপুরের সভাপতি ড. নূহ আলম লেলিন বলেন, গ্রন্থ জাদুঘরটি প্রাচীন বই রযেছে। কেই যদি উচ্চতর ডিগ্রী অর্জণ করতে এখানকার বই পড়তে চায়। তবে তাকে অগ্রসর বিক্রমপুরের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এখান থেকে বই নেয়া যাবেনা। এখানে থাকা খাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে থেকেই বই নিয়ে ডিগ্রি বা গবেষনার জন্য পাঠ করতে পারবে।

তিনি বলেন, আবদুল জাব্বার খান বাংলাদের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ নির্মাণ করে এদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের যাত্রা শুরু করেছিল। এফডিসি বা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তাঁর জন্য কিছুই করেনি। বিক্রমপুরের এই কৃতি সন্তানের নামে ‘আবদুর জাব্বার খান মুক্ত মঞ্চ’ নাম করণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে রবীন্দ্র সংগীত ও নজরুল সঙ্গীত এবং একটি নৃত্য দিয়ে আয়োজনের শুরু হয়।

গ্রন্থ জাদুঘরটিতে ৩৫টি আলমিরায় ২০ হাজার বই থরে থরে সাজানো হয়েছে। এখানে স্থান পেয়েছে-তালপাতার বই, তুলট কাগজের বই, খোদাই করা ছাপার বই, সাহিত্য, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বই, বাংলাসাহিত্যসহ নানা ধরনের বই স্থান পেয়েছে।

error: দুঃখিত!