১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
সোমবার | রাত ৩:৩৬
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
মুন্সিগঞ্জে তালের চাহিদা কমেছে
খবরটি শেয়ার করুন:

মৃুুন্সিগঞ্জ, ০৭ জুন, ২০২২, আমার বিক্রমপুর (আমার বিক্রমপুর)

একটা সময় মুন্সিগঞ্জে তালের চাহিদা ছিল। রাস্তার পাশে তাল বিক্রি হতো প্রচুর। এখন তালের বিক্রি কমেছে অনেকটাই। এবছর বিক্রি একদমই নেই। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এ পেশার সাথে জড়িতরা।

মুন্সিগঞ্জ শহরের তাল বিক্রেতা গোপাল বিশ্বাস জানান, আগে তালের চাহিদা অনেক ছিলো। এবছর চাহিদা নেই। অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে লাভ খুব বেশি হচ্ছে না। বর্তমানে ১টি তাল ২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ১৫ দিন আগে ছিলো ১ টি তাল ৪০ টাকা। তাও ক্রেতা নেই। একটি তাল পাইকারি কিনতে হয় ১০-১২ টাকা।

শহরের কাচারি এলাকায় তাল বিক্রেতা রুমান মিয়া জানান, ২০ দিন আগে এক তাল ৫০ টাকা বিক্রি করেছি। বর্তমানে তালের দাম কম থাকা স্বত্তেও তালের ক্রেতা নেই।

তালের উপকারিতা: তাল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণসমৃদ্ধ হওয়ায় ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম। এ ছাড়া স্বাস্থ্য রক্ষায়ও তাল ভূমিকা রাখে। স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাল ভিটামিন বি-এর আধার। তাই ভিটামিন বি-এর অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধে তাল ভূমিকা রাখে। তালে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস আছে, যা দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়ক। কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের রোগ ভালো করতে তাল ভাল ভূমিকা রাখে।

তালের ফল এবং বীজ দুই বাঙালির খাদ্য। কচি অবস্থায় তালের বীজও খাওয়া হয় যা তালশাঁস নামে পরিচিত। এই তাল পাকলে এর ঘন নির্যাস দিয়ে তালসত্ব, পিঠা, কেক তৈরী করা হয়। এগুলো অনেক সুস্বাদুও বটে।

তাল গাছের কাণ্ড থেকেও রস সংগ্রহ হয় এবং তা থেকে গুড়, পাটালি, মিছরি, তাড়ি ইত্যাদি তৈরি হয়। তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, জিংক, পটাসিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়াম সহ আরও অনেক খনিজ উপাদান। এর সঙ্গে আরও আছে অ্যান্টি অক্সিজেন ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। তালের রস ও চিনি দিয়ে বানানো হয় তালসত্ব। এটি রোদে শুকিয়ে সারাবছর খাওয়া যায়। অনেকে ভাত ও দুধের সঙ্গে এই তালসত্ব খেয়ে থাকেন। তালের রস, দুধ, চিনি দিয়ে জুস বানানো যায়। তাল যেহেতু ভাদ্র মাসে পাকে, সেই সময়ের গরমে এই জুস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।

তালের পিঠা- তালের ঘন নির্যাসের সঙ্গে ডিম, চালের গুঁড়া, গুড় বা চিনি এবং কখনো নারিকেল দিয়ে তালের পিঠা তৈরি করা হয়। গ্রামগঞ্জে এই পিঠার ঐতিহ্য রয়েছে। তালের পিঠার সুন্দর একটি ফ্লেভার রয়েছে।

তালের কেক- কেকের সব উপকরণের সঙ্গে তালের রস মিশিয়ে কেক বানানো হয়। এর রং খুবই আকর্ষণীয় হয়। তালের কেকের মধ্যে চিনি কম এবং ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য ভালো খাবার হতে পারে।

error: দুঃখিত!