২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | রাত ২:৪৭
চরকেওয়ার ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি: পদে আছেন, মাঠে নেই!
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ১৮ মে, ২০২১, প্রধান প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন তার ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপের অভিযোগ, পাল্টা-অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এক পক্ষ বলছেন, আব্দুর রাজ্জাক ১ বৎসর যাবৎ চরকেওয়ার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতির পদে আছেন। তবে কমিটি হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের কোন কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায়নি। ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য পদ ব্যবহার করছেন ঠিকই কিন্তু মাঠের কোন কর্মকান্ডে নেই তিনি। তবে এসব অভিযোগকে দলীয় কোন্দলের অংশ বলে তা প্রত্যাখান করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চরকেওয়ার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ১ বৎসর। এক বৎসর আগে আব্দুর রাজ্জাক কে সভাপতি ও মোতা গাজী কে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই কোন সাংগঠনিক কর্মকান্ড করতে পারেননি আব্দুর রাজ্জাক। কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোতা গাজী তার উদ্যোগে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করলেও তাতেও অংশ নেননা আব্দুর রাজ্জাক।

চরকেওয়ার ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার শিকদার অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতির অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। তাছাড়া তিনি মুন্সিগঞ্জ শহরের মানিকপুর এলাকায় বসবাস করেন। বছরের বেশিরভাগ সময় থাকেন দেশের বাইরে মেয়ে জামাইর বাসায়। শীঘ্রই তাকে অপসারণ করে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করা দরকার।

তিনি বলেন, সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে না থাকলেও দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নাম মিথ্যা মামলায় জড়ানোর কাজে জড়িত।

চরকেওয়ার ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বপন শিকদার বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দলীয় কর্মকান্ডে না থাকলেও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় কোন্দল ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির পায়তারা করেই চলেছেন। যেসব লোকজন এসবের সাথে জড়িত না তাদের বিরুদ্ধেও মামলায় নাম ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। তার সাথে ওয়ার্ড পর্যায়ের বেশিরভাগ নেতাকর্মীর সুসম্পর্ক নেই। তিনি সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হোক।

চরকেওয়ার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতা গাজী বলেন, সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ব্যক্তিগত স্বার্থে দলীয় পদ ব্যবহার করছেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টিরও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চরকেওয়ার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ‘আমার বিক্রমপুর’ কে বলেন, চরকেওয়ার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে এক ভাগে রয়েছি আমি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসারউদ্দিন ভুইয়া আফসু সমর্থিত অন্যভাগে আছেন আমার সাধারণ সম্পাদক মোতা গাজী। মূলত এ কারনেই আমার বিরুদ্ধে অপর পক্ষের এত অভিযোগ। আসলে এই সব অভিযোগই ভিত্তিহীন। আমার কাজের এক্টিভিটি দেখবে থানা কমিটি দেখবে। কমিটি হওয়ার পরে আমি দেশের বাইরে যাইনি। এর আগে কয়েকবার গিয়েছিলাম। দুই মাস-তিন মাস থেকেছি।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের দুই সদস্যের কমিটি। পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া করেছি, তবে তার অনুমোদন পাইনি। তাছাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কোন কমিটিই হয়নি। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তারা কমিটির কেউ নন। তাছাড়া সাধারণ সম্পাদক মোতা গাজী একজন অযোগ্য লোক।

মিথ্যা মামলায় নাম জড়িয়ে দেয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার বিষয়ে যদি আমার হাত থাকে তারাও আমার বিরুদ্ধে মামলা দিক।

error: দুঃখিত!