খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনে সারাদেশে বিএনপির দোয়া মাহফিল কর্মসূচি আজ
মুন্সিগঞ্জ, ১৫ আগস্ট ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিনে কেক কাটা বা অন্য কোনো আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজন না করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছে দলটি।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিনে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ নির্দেশনা দেন।
তিনি জানান, ১৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় এবং একই সঙ্গে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে জীবনদানকারী শহীদ, ৯০ এর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ও ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় বিএনপির উদ্যোগে সারাদেশে দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
রিজভী জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ছাড়া কেক কাটা কিংবা অন্য কোনো আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান না করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ১৫ আগস্ট বেলা ১১টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
খালেদা জিয়া গত কয়েকবছর অসুস্থতার মধ্যে থাকায় তিনি গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্চায় চিকিৎসাধীন আছেন। নেতা-কর্মীদের তিনি সাক্ষাৎ দেন না। তবে দুই ঈদে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এর মধ্যে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চার মাস কাটান তিনি। সেখান থেকে গত ৬ মে ফেরেন তিনি। এরপর এক যুগের বেশি সময় পর গত ১০ মে দুই পূত্রবধুকে নিয়ে গুলশানে ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের বাসায় যান তিনি।
তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রকাশ্যে কোনো অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল খালেদা জিয়াকে। সেদিন তিনি সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।
চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে খালেদা জিয়া চতুর্থ। বাবা এস্কান্দর মজুমদার, মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। পৈত্রিক নিবাস ফেনীর ফুলগাজী হলেও তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে দিনাজপুরে বাবার কর্মস্থলে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখেন গৃহবধূ খালেদা। প্রথমে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে তিন দফা বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস ও কিডনি জটিলতা, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।


