১৭ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
বুধবার | সকাল ৮:২২
Search
Close this search box.
Search
Close this search box.
কনকসার-নাগেরহাট খাল: উচ্ছেদ হয়নি অবৈধ স্থাপনা, বেরিয়ে এলো আরও দখলের তথ্য
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৭ জুলাই ২০২৪, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কনকসার ইউনিয়নের কনকসার-নাগেরহাট খাল খনন চলছে পুরোদমে। একদিকে খাল খনন চললেও অপরদিকে খালের পাড় জুড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। সাড়ে ৩ কিলোমিটার এ খালের অসংখ্য স্থানে প্রভাবশালীদের অবৈধ স্থাপনা এখনো বিদ্যমান রয়েছে।

আবার খালের উপর একাধিক অবৈধ স্থাপনা তথা দোকানপানের খুঁটি পাশ কাটিয়েই খনন কাজ চলছে।

এদিকে, খালের সীমানা নির্ধারণ করে উপজেলা প্রশাসন লাল নিশানা টানিয়েছে। আর সেই লাল নিশানার ভেতর বিদ্যমান অবৈধ স্থাপনা রেখেই খাল খনন কাজ চলছে।

সরেজমিনে উপজেলার ওই খালের কনকসার, সিংহের হাটি, ফকির বাড়ি ও নাগেরহাট গ্রাম ঘুরে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে।

উপজেলার ফকির বাড়ি গ্রামে খালের পাড়ে নিজের কয়েকটি দোকানঘর রেখেই খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদারের অন্যতম অংশীদার শামীম মোড়ল। তিনি ঠিকাদারের অংশীদার হিসেবে খালের খনন কাজের সঙ্গে জড়িত আছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে তারা জানিয়েছেন, কনকসার গ্রাম থেকে ফকির বাড়ি পর্যন্ত খালের পাড়ে ওই ঠিকাদারের নিজেরই রয়েছে ৮ টি অবৈধ স্থাপনা। আর নাগেরহাট বাজারে খালের পাড়েই স্থানীয় প্রভাবশালী শেখ শাহীনের নিজের একটি মার্কেট। নিজের নামে গড়ে তোলা শাহীনের ওই মার্কেটে রয়েছে ৬ থেকে ৭ টি দোকানঘর।

অন্যদিকে, একদা উপজেলার কনকসার-নাগেরহাট খালের ছিলো ভরা যৌবন। তখন লঞ্চ চলাচল করতো। তালতলা-ডহুরী খালের সঙ্গে যোগ হয়ে এ খালটি মিশেছে ইছামতি ও ধলেশ্বরীতে। আর এ নৌপথ হয়েই একদা ঢাকার সদরঘাটের নৌ-যোগাযোগ গড়ে উঠেছিলো। কিন্তু কালক্রমে এ খালের দু’পাশে পলি জমে ছোট হয়ে আসে। খালের পাড়ে গড়ে উঠে অবৈধ স্থাপনা।

সম্প্রতি এ খালের সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকা খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। লৌহজং উপজেলা এলজিইডি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এ খাল খনন কাজ বাস্তবায়ন করছে। দরপত্র আহবানের মধ্য দিয়ে খনন কাজ পেয়েছেন উপজেলার লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মোল্লা। তার সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করছেন কনকসার গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি শামীম মোড়ল।

সিংহেরহাট গ্রামের বাসিন্দা লালু ফকির (৯৫) বলেন, সরকারি খালের পাড় দখল করে ঠিকাদারের অংশীদার শামীম মোড়লের রয়েছে ৪ টি দোকানঘর। সেগুলো পাশ কাটিয়েই নিজেই খাল খনন করছেন শামীম।

কনকসার গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান (৬৩) বলেন, ৭০ দশকে এ খালে ভরা যৌবন ছিলো। কনকসার ব্রিজের মুখ থেকে ঢাকার সদরঘাট অভিমুখে প্রতিদিন লঞ্চ চলাচল করতো। ধীরেধীরে খালটি ভরাট হয়ে গেছে। অনেকে এখনও খালের জমি দখলে নিতে মরিয়া। প্রশাসনের উচিত খাল খননের পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অংশীদার শামীম মোড়ল বলেন, কনকসার থেকে নাগেরহাট পর্যন্ত খাল পাড়ে বৈধ-অবৈধ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। কিন্তু খনন কাজ চলাকালে আমরা কোনো স্থাপনাই ভেঙ্গে ফেলেনি। তবে নিজের অবৈধ স্থাপনার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সোয়াদ-বিন-আজাদ বলেন, ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে খাল খনন করা হচ্ছে। খনন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বৈধ কিংবা অবৈধ স্থাপনা বুঝি না, তবে খালের পাড়ে অসংখ্য স্থাপনা রয়েছে। খাল খনন যথা নিয়মে চলতে থাকবে। আর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন দেখবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, খালের পূর্বপাশে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। আমি নিজেই অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছি। অবৈধ স্থাপনা থাকবে না। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দিয়ে শিগগিরই এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

error: দুঃখিত!