মুন্সিগঞ্জে পরকীয়ায় স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ে, ক্ষোভে নতুন স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রাক্তন স্বামী
1

মুন্সিগঞ্জ, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে স্ত্রীর পরকীয়া ও দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে না পেরে তাঁর নতুন স্বামী আব্দুল জব্বারকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন স্বামী মো. মন্টু মিয়ার বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন সপ্তাহ পর গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীনগর থানা পুলিশ।

গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন ট্যাংরা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মো. মন্টু মিয়া (৫৫) ঢাকার লালবাগ থানার ৮ নম্বর কাশ্মেরী টোলা লেনের মৃত স্বপন মোল্লার ছেলে।

মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুল জব্বার প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। এলাকায় চলাফেরার সুবাদে মন্টুর স্ত্রী রুবিনা বেগমের সঙ্গে জব্বারের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং তাঁরা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রায় দুই বছর আগে মন্টু, তাঁর স্ত্রী রুবিনা এবং জব্বার শ্রীনগর থানাধীন পশ্চিম খৈয়াগাঁও এলাকায় কাজী সাইফুজ্জামানের বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে বসবাসের সময় রুবিনা বেগম গোপনে জব্বারকে বিয়ে করেন। বিষয়টি গোপন রাখতে জব্বারকে নিজের ভাই পরিচয় দিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

পরবর্তীতে জব্বারের সঙ্গে রুবিনার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি মন্টুর নজরে এলে তাঁদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ নিয়ে জব্বারের সঙ্গে মন্টুর বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে রুবিনা তাঁর স্বামী মন্টুকে ডিভোর্স দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং জব্বারকে নিয়ে তাঁর বর্তমান ঠিকানার বাসায় বসবাস শুরু করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনার জেরে গত ১৬ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে মন্টু ওই বাড়িতে যান। সেখানে জব্বারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে মন্টু ধারালো অস্ত্র দিয়ে জব্বারকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন।

এতে জব্বারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর কাটা জখম হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মন্টু ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত জব্বারকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন রাত ৮টা ৫০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মিনারা আক্তার বাদী হয়ে মো. মন্টুসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

তিন থানায় অভিযান, গাজীপুরে গিয়ে গ্রেপ্তার

মামলা রুজুর পর পুলিশের একটি চৌকস দল আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে আসামি মন্টুকে গ্রেপ্তারের জন্য মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সিরাজদিখান ও শ্রীনগরসহ বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে মন্টুর পৈতৃক বাড়ি শ্রীনগরে হলেও সেখানে তাঁর কোনো আপনজন বসবাস করেন না।

পুলিশের তথ্যমতে, মন্টুর চার বোনের মধ্যে একজন কামরাঙ্গীরচর ঢাকায়, একজন কসবা কুমিল্লায়, একজন শ্রীনগরের সিংপাড়ায় এবং অপরজন গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বসবাস করেন। তাঁর কোনো ভাই নেই। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর তিনি অনেকটা ভাসমান জীবনযাপন করছিলেন।

আসামিকে গ্রেপ্তারে সম্ভাব্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার এবং বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ করে পুলিশ জানতে পারে, মন্টু গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে তাঁর বোন জমিলার আশ্রয়ে রয়েছেন।

এরপর তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায় শ্রীনগর থানা পুলিশ। একপর্যায়ে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন ট্যাংরা বাজার এলাকা থেকে মন্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে জব্বার হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ