বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার মুন্সিগঞ্জে, কোল্ডস্টোরেজ ও ক্ষুদ্র গার্মেন্টস শিল্পে প্রভাব
18

মুন্সিগঞ্জ, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

গতকালের ঝড়-বৃষ্টির পর টানা ১৫-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা।

দীর্ঘ সময়ের এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একইসঙ্গে জেলার কোল্ডস্টোরেজ, ক্ষুদ্র গার্মেন্টস শিল্প, ফ্রিজভিত্তিক ব্যবসা ও ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব।

সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। মোবাইল চার্জ, পানির মোটর চালু রাখা, ইন্টারনেট ব্যবহারসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজেও দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারগুলো।

পঞ্চসারের দশকানি এলাকার বাসিন্দা তাসলিমা বেগম জানান, “গতকাল রাত থেকে বিদ্যুৎ নেই। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। গরমে ঘুমানো যাচ্ছে না, মোবাইলও চার্জ দিতে পারছি না। পানির মোটর বন্ধ থাকায় বাসার কাজও ব্যাহত হচ্ছে।”

ভট্টাচার্যের বাগ এলাকার সোহেল ঢালী জানান, “ঝড়ের পর থেকে পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে আছে। ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবার নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ব্যবসার কাজও ব্যাহত হচ্ছে। এত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।”

সিপাহিপাড়া এলাকার মনসুর আহমেদ জানান, “প্রতিদিনই লোডশেডিং থাকে, কিন্তু এবার ১৫-১৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা দরকার।”

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে জেলার কোল্ডস্টোরেজ ও ক্ষুদ্র শিল্পখাত।

সিরাজদিখানের ধলেশ্বরী কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার প্রবীর দত্ত জানান, একটি কোল্ডস্টোরেজ সারাদিন চালাতে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে। সেখানে আমরা প্রতিদিন অর্ধেক পরিমাণ বিদ্যুৎ পাচ্ছি। এছাড়া একটি সীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেশিন পুরোপুরি সচল করতে টানা তিন ঘন্টার বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এখন যেভাবে প্রতি ঘন্টায় লোডশেডিং হচ্ছে সেটিও প্রভাব ফেলছে কোল্ডস্টোরেজের উপর।

কয়েকটি কোল্ডস্টোরেজ মালিক জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালিয়ে সংরক্ষিত পণ্য ঠিক রাখতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন অতিরিক্ত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ হচ্ছে। জ্বালানির দাম ও সংকটের কারণে ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।

মুক্তারপুর এলাকার এক ক্ষুদ্র গার্মেন্টস উদ্যোক্তা রাকিব হোসেন জানান, “বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। জেনারেটর চালিয়ে কাজ করতে গেলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য এটা বড় চাপ।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার আড়াই হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিয়মিত বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছে।

বিশেষ করে গার্মেন্টস, ওয়েল্ডিং, প্রিন্টিং, কোল্ডস্টোরেজ ও খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবসাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং অনেক স্থানে তার ছিঁড়ে যাওয়াসহ একাধিক কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যার কারণে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। তবে দুপুর ১২টার পর এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুন্সিগঞ্জে প্রতিদিন প্রায় ১৯০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৩০ থেকে ১৪০ মেগাওয়াট। কখনও তা নেমে যাচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ মেগাওয়াটে। ফলে নিয়মিত লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ঘনঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ