‘আয়োজকদের সাথে কোন বৈঠক হয়নি’, গজারিয়ায় মেলা বন্ধে অনড় আলেম সমাজ
৪৮

মুন্সিগঞ্জ, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘লোকজ সংস্কৃতি ও কুটির শিল্প বাণিজ্য মেলা-২০২৬’ আয়োজনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

মেলা আয়োজনের বিষয়ে স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে আয়োজক কমিটির বৈঠক ও সমঝোতার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হলেও এমন কোনো বৈঠক হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আলেমরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গজারিয়ার ওলামায়ে কেরাম।

জানা যায়, মেঘনা সেতুর পাদদেশে জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ও নির্ধারিত ২২টি শর্ত মেনে মেলাটি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে মেলার আয়োজন বন্ধের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলন করেন গজারিয়ার স্থানীয় আলেম সমাজ।

ওই সংবাদ সম্মেলনের পর মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন মেলা বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান আলেমরা।

এর মধ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হয়, আয়োজক কমিটির সঙ্গে স্থানীয় আলেমদের বৈঠকে মেলা আয়োজনের বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। বৈঠকে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি নূর হোসেন নূরানী উপস্থিত ছিলেন বলেও সংবাদে উল্লেখ করা হয়।

তবে প্রকাশিত ওই খবরকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গজারিয়ার স্থানীয় আলেমরা। তাঁদের দাবি, মেলা বন্ধের দাবিতে স্থানীয় আলেম সমাজ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ ছাড়াই মেলার বিষয়ে সমঝোতার খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

মুফতি নূর হোসেন নূরানী এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত না থাকায় স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুফতি মাওলানা ফয়েজ উল্লাহ, মাওলানা আল আমিন সরকার, মাওলানা সাইফুল ইসলাম সাইফী, মাওলানা মঈনুল ইসলামসহ স্থানীয় আলেমরা।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হোসাইন আহমদ ইসহাকী বলেন, আমরা এই মেলা বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছি। সেখানে স্পষ্টভাবে বলেছি, অনৈসলামিক কার্যক্রম বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। হয়তো এখন আমাদের সেই কর্মসূচির দিকেই যেতে হবে। আমরা খুব দ্রুত জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুরের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করব। তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, পরবর্তী পদক্ষেপ সেভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে।

উপজেলা কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি আল্লামা হাসান ফারুক বলেন, মুফতি নূর হোসাইন নূরানী সাহেব আমাকে ফোনে জানিয়েছেন, এটি একটি জাতীয় প্রোগ্রাম। এখানে যাতে কোনো অসামাজিক কার্যকলাপ না হয়, তা মনিটরিং করতে এবং সে অনুযায়ী স্থানীয় আলেমদের দিকনির্দেশনা দিতে তাঁকে বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা তো জানি, মেলার মধ্যেই অনেক খারাপ বিষয় রয়েছে। আমরা সংবাদ সম্মেলন করেছি এবং একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আবারও একত্রিত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ জানাব।

অন্যদিকে, আয়োজকদের সঙ্গে কথা হলেও প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি নূর হোসেন নূরানী।

তিনি বলেন, আয়োজকরা আমাকে ফোন করেছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এখানে ইসলামবিরোধী কোনো কার্যক্রম হবে না। যেহেতু ব্যবসা হালাল, তাই ইসলামবিরোধী কোনো কার্যকলাপ না হলে আমি মেলার বিরোধিতা করব না। তবে মদ, জুয়া কিংবা সার্কাসের মতো ইসলামবিরোধী কিছু হলে এক ঘণ্টার জন্যও মেলা হতে দেব না। মেলায় কোনো ধরনের ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ চলতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আলেমদের নিয়ে একটি যৌথ মনিটরিং টিম গঠন করা হবে।

উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসনের অনুমোদনে আয়োজিতব্য এ মেলার জন্য মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ রতনকে ইজারা দেওয়া হয়েছে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ