৯০ দশকের প্রভাবশালী রাজনীতিক মোহাম্মদ হোসেন বাবুলকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায়
মুন্সিগঞ্জ, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মহান মুক্তিযুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ সদর, টংগিবাড়ী ও গজারিয়া—এই তিন থানার বিএলএফের (বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স) যুদ্ধকালীন কমান্ডার, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আশি-নব্বইয়ের দশকের প্রভাবশালী রাজনীতিক মোহাম্মদ হোসেন বাবুলকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাদ জুমা মুন্সিগঞ্জ সদর থানা জামে মসজিদে জানাজা শেষে শহরের কাটাখালি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ঢাকার কলাবাগান এলাকায় ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মোহাম্মদ হোসেন বাবুল।
পরে তাকে আনা হয় মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার জগধাত্রীপাড়ায় নিজ বাসভবনে।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তার মৃত্যুতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে মোহাম্মদ হোসেন বাবুলের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি মুন্সিগঞ্জ সদর, টংগিবাড়ী ও গজারিয়া থানা এলাকায় বিএলএফের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে এসব এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধারা। পাশাপাশি তিনি মুন্সিগঞ্জ সদর থানার কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে মুন্সিগঞ্জে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ মুন্সিগঞ্জ ট্রেজারি থেকে অস্ত্র সংগ্রহ ও থানা দখলের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও তার নাম উল্লেখযোগ্য।
মুক্তিযুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে স্থানীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন মোহাম্মদ হোসেন বাবুল। তিনি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আশি ও নব্বইয়ের দশকে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সরব উপস্থিতি ছিল।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পারিবারিক বিরোধের কারণে দলীয় রাজনীতিতে অবহেলার শিকার হন বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে তিনি বাকশালের ব্যানারে রাজনীতি শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যে সংগঠনটিকে জেলা পর্যায়ে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখেন।
পরবর্তী সময়ে বাকশাল বিলুপ্ত করে আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হলে বাবুলও দলটিতে ফিরে আসার চেষ্টা করেন। তবে মহিউদ্দিন ও আনিসুজ্জামানের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের কারণে তার সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। পরে তিনি ড. কামালের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের রাজনীতিতে যুক্ত হন।
মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসারির সংগঠক থেকে স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠা মোহাম্মদ হোসেন বাবুলের মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি জেলার মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।









