সিরাজদিখানে ৬ মাসে ৯২ মামলা গ্রেফতার ১০২, উদ্ধার ২ হাজার পিস ইয়াবা
সিরাজদিখানে উপজেলার সর্বত্রই এখন ইয়াবার বানিজ্য। তবে যে নামেই ডাকা হোক না কেন নেশাখোরদের কাছে এটি ‘বাবা’ নামেই সর্বাধিক পরিচিতি পেয়েছে। গত ৬ মাসে সিরাজদিখান থানায় ৯২ টি মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ১০২ জন। আর ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২ হাজার পিস। আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা একাধিক মাদক সম্রাটকে গ্রেফতার করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মুখোশধারী গডফাদাররা।
জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, গ্রাম,মহল্লা, হাট-বাজার থেকে শুরু করে চায়ের দোকানেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইয়াবার বিস্তারের ভয়াবহতার চিত্র। আগে নির্দিষ্ট কিছুস্থানে ইয়াবা বেচাকেনা হলেও এখন তা আর নির্দিষ্ট কোনো স্থানে নেই। ‘কল অন ডেলিভারি’তে ইয়াবা মিলছে সিরাজদীখানের সর্বত্র। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থী থেকে শুরু করে চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, কতিপয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা কেউই বাদ নেই ইয়াবার নীল ছোবল থেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর সাথে আলাপ করে জানা যায়, সিরাজদিখানে মাসে গড়ে ৫০ হাজার পিস ইয়াবার চাহিদা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম হলে বেড়ে যায় দাম। মানভেদে একেকটি ইয়াবার দাম সাধারণত ১শ’ পঞ্চাশ’ থেকে ৫’শ টাকা করে বিক্রি করা হয়।
সেবনকারীরা জানান, আগে উপজেলার নির্দিষ্ট এলাকায় ছোটবড় চলতো ইয়াবার বেচাকেনা ও সেবন। তবে এখন তা আর নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। উপজেলায় হাত বাড়ালেই এখন ইয়াবা মেলে। সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই চলে ইয়াবার কেনাবেচা। বিক্রেতাদের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে স্থানের কথা বললেই পৌঁছে দেয়া হয় মরন নেশা ইয়াবা। বিশেষ করে উপজেলার উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের সবকয়টি ইউনিয়নে ইয়াবার সয়লাব তবে বালুরচর, লতব্দী,মালখানগর, কেয়াইন, শেখরনগর, রাজানগর, ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশী মাদক বেচা কেনা হয়। বালুরচর ইউনিয়নের কালিনগর, রাজনগর, আকবরনগর, মোল্লাকান্দি, লতব্দী ইউনিয়নের নতুন ভাষানচর, দোসরপাড়া, কংসাপুরা, কেয়াইন ইউনিয়নের কুচিয়ামোড়া, নিমতলা, শিকারপুর, রাজানগর ইউনিয়নের সৈয়দপুর , মধুপুর, বাড়ৈইখোলা রাজানগর বাজার, শেখরনগর ইউনিয়নের শেখরনগর বাজার, ফেইনপুর, ঘনশ্যামপুর, বাসাইল , মালখানগর ইউনিয়নে তালতালা বাজার, লঞ্চখঘাট, ফুরসাইল, কাজিরবাগ সবচেয়ে বেশি ইয়াবা বেচা কেনা হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে ছোট-বড় প্রায় ৪০টি স্পটে মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওইসব এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক লেবাস লাগিয়ে পুলিশের তালিকাভূক্ত চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের করাল থাবায় এখন তরুণ ও যুব সমাজের পাশাপাশি শিশুদের জীবনও বিপন্ন হতে চলেছে। রাজনৈতিক লেবাসে থাকায় থানা পুলিশও ওইসব চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যেতে পারছেন না।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ অফিসারকেও মাদক ব্যবসায়ীরা নিয়মিত মাসোয়ারা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে নির্বিঘ্নেই ওইসব মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের মাদক ব্যবসার প্রসারতা দিনদিন বৃদ্ধি করেছে।
এ ব্যাপারে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)ইয়ার দৌস হাসান জানান, ইতোমধ্যে উল্লেখিত এলাকার কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্যদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে । তবে পুলিশের মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন- মাদকের ব্যাপারে কোন আপোষ নেই। কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





