মুন্সিগঞ্জে মার্কেটের সামনে সৌন্দর্য বাড়াতে সরকারি গাছ কাটলেন আ. লীগ-বিএনপি নেতা!
1

মুন্সিগঞ্জ, ৩০ আগস্ট ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সরকারি রাস্তার পাশে থাকা বহু বছরের পুরোনো দুটি বড় গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে সঙ্গে নিয়ে গাছ দুটি কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পরে গাছের গোড়ায় বালু ফেলে বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়।

আজ রোববার ইউনিয়নের গুহপাড়া এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাছ কাটার সত্যতা পেয়েছে উপজেলা বন বিভাগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ সেলিম তাঁর নিজ জমিতে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তবে জমির সামনের সরকারি রাস্তার পাশে থাকা দুটি বড় গাছ নির্মাণকাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরে বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মুস্তাক আহমেদ শিপু ওরফে শিপু মুন্সীর সঙ্গে ওই প্রবাসীর ২০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। অভিযোগ, ওই টাকার বিনিময়ে ‘নিজ দায়িত্বে’ গাছ দুটি কেটে জায়গা পরিষ্কার করে দেওয়ার কথা বলেন শিপু।

পরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান মীর লিটুকে সঙ্গে নিয়ে শিপু মুন্সী সরকারি রাস্তার পাশের গাছ দুটি কেটে ফেলেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কেটে ফেলার পর গাছগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া গাছ কাটার বিষয়টি আড়াল করতে গোড়ায় বালু ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা বন বিভাগের একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার বিষয়টি দেখতে পান। এ সময় অভিযুক্ত শিপু মুন্সী বন বিভাগের প্রতিনিধির কাছে গাছ কাটার অনুমতিপত্র থাকার কথা দাবি করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে আব্দুল মান্নান মীর লিটু বলেন, ‘আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। তবে শিপু মুন্সীর সঙ্গে এখন চলাফেরা করি। এ কারণে কেউ হয়তো আমার নাম বলতে পারে।’ পরে তিনি প্রতিবেদককে ফোন করে সংবাদটি না করার অনুরোধ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার মুস্তাক আহমেদ শিপুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গাছ কাটা হয়েছে। আমি অসুস্থ থাকায় একজন প্রতিনিধিকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এর সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ