মরদেহ হয়ে কাল শেষবারের মতো নিজ গ্রামে ফিরছেন সিনহা, জানাজা বিকালে
42

মুন্সিগঞ্জ, ১৭ মে ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মিজানুর রহমান সিনহার মরদেহ আগামীকাল সোমবার শেষবারের মতো নিজ গ্রাম লৌহজং উপজেলার ডহুরীতে আনা হবে।

বাদ আছর পৈত্রিক বাড়ির পাশে কলমা লক্ষ্মীকান্ত উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার শেষ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় ৩০-৫০ হাজার লোকের সমাগম হতে পারে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কলমা লক্ষ্মীকান্ত উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ৫০ হাজার মানুষের। তবে জানাজা নামাজার জন্য দাড়ালে সেই ধারণক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।

কাল সোমবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে মিজানুর রহমান সিনহার। এরপর বাদ আছর মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পৈত্রিক বাড়ির পাশে পঞ্চম ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

জানাজার নামাজে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে (১৬ মে) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মিজানুর রহমান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। পরে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর তালিকাতেও তার নাম ছিল। তবে অসুস্থতার কারণে পরে ওই আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়।

মিজানুর রহমান সিনহা ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত একটি পরিচিত স্থান।

তার পিতা হামিদুর রহমান সিনহা বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ ও একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। মিজানুর রহমান সিনহা শৈশবে কলকাতায় বেড়ে ওঠেন। পরে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পিতার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে একমি গ্রুপে যোগ দেন এবং ১৯৮৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মুন্সিগঞ্জ-২ আসন থেকে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কাজ ও দানশীলতার জন্যও এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তার মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনসহ বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ