ইতালিতে আপন ছোট ভাইকে হত্যা: আদালতে বড় ভাই বললেন ‘আমি চাইনি এমন কিছু ঘটুক’
38

মুন্সিগঞ্জ, ২৩ মে ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ত্রিকাসেতে আপন ছোট ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি প্রবাসী মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার শেখ মো. হুমায়ুনকে অবশেষে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

শুনানিতে নিজের অপরাধ স্বীকার করলেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করতে পারেননি তিনি। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন।

গত ৫ মে ইতালির লেচ্চে জুডিশিয়াল কোর্টে বিচারক আঞ্জেলো জিজ্জারির আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৩৩ বছর বয়সী হুমায়ুনকে ‘ওমিচিদিও ভোলোনতারিও’ বা স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে জবানবন্দির জন্য হাজির করা হয়। শুনানিতে তার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দারিও পাইয়ানো।

আদালত সূত্র ও ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ এপ্রিল ইতালির কাপো দি লেউকা অঞ্চলের ত্রিকাসে শহরের ভিয়া লুইজি কাদোর্নার একটি বাসায় ছোট ভাই শেখ মো. নয়নকে (২৮) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন হুমায়ুন।

শুনানিতে হুমায়ুন বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে নয়নের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে রাগের মাথায় রান্নাঘর থেকে ২৩ সেন্টিমিটার ব্লেডের একটি ছুরি এনে তিনি নয়নের মাথা ও পিঠে আঘাত করেন। তবে কেন পরিস্থিতি এত ভয়াবহ রূপ নিল, সেটি তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না বলে আদালতে দাবি করেন।

হুমায়ুন আদালতকে বলেন, ‘আমি কখনো চাইনি এমন কিছু ঘটুক। বুঝতে পারছি না কেন পরিস্থিতি এতদূর গেল।’

তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে জানান, হুমায়ুনের সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা তার বাবা দেলোয়ার হোসেন এবং ছোট ভাই নয়নের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। বিশেষ করে টাকা পাঠানো ও পারিবারিক কর্তৃত্ব নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে আদালতে স্বীকার করেন অভিযুক্ত।

এদিকে মামলার তদন্তকারী কারাবিনিয়েরি পুলিশ আদালতে আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হুমায়ুন বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ভিডিও কল দেন। ওই ভিডিও কলে তিনি নিজের রক্তাক্ত হাত, হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি এবং মেঝেতে পড়ে থাকা নয়নের মরদেহ দেখান।

পরিবারের এক সদস্য সেই ভিডিও কল অন্য একটি মোবাইল ফোন দিয়ে রেকর্ড করেন। পরে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় সেই ভিডিও ফুটেজ ও স্ক্রিনশট ইতালীয় তদন্তকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এটি মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে আরও এক বাংলাদেশি রুমমেট উপস্থিত ছিলেন। তিনিই প্রথম গুরুতর আহত নয়নকে দেখে ইতালির জরুরি মেডিকেল সার্ভিসে ফোন করেন। তবে চিকিৎসকরা পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নয়নের মৃত্যু হয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হুমায়ুনকে মরদেহের পাশে বসে থাকতে দেখে। এ সময় তিনি কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

শুনানি শেষে বিচারক আঞ্জেলো জিজ্জারি হুমায়ুনের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কঠোর নিরাপত্তায় লেচ্চে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ বহাল রাখেন।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ