২৩ দিনের মাথায় বসলো পদ্মা সেতুর ২৯তম স্প্যান
মুন্সিগঞ্জ, ৪ মে, ২০২০, আরাফাত রায়হান সাকিব (আমার বিক্রমপুর)
করোনা পরিস্থিতিতে দেশে যখন সকল কার্যক্রম প্রায় স্থবির এমনই অবস্থায় এগিয়ে চলছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মানযজ্ঞ।
নির্মান কাজের এ ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার (৪ই মে) সকাল ১০টা ৪৫মিনিটে সেতুর মুন্সিগঞ্জ প্রান্তে ১৯ ও ২০নং পিয়ারে বসানো হয়েছে ২৯তম স্প্যান ‘৪-এ’।
এতে দৃশ্যমান হলো সেতুর ৪হাজার ৩৫০ মিটার অংশ।
২৮তম স্প্যান বসানোর ২৩দিনের মাথায় ২৯তম স্প্যানটি বসানো হলো।পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রোববার (৩ই মে) সকালে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ‘তিয়ান-ই’ ভাসমান ক্রেনে স্প্যানটি নির্ধারিত ২টি পিয়ারে কাছে পিলারের কাছে নোঙর করে রাখা হয়েছিলো।
আজ সোমবার (৪ মে) সকালে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় নির্ধারিত সময় সকাল ৮টায় স্প্যানটি বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকৌশলী ও নির্মান শ্রমিকদের প্রচেষ্টা সকাল ১০টা ৪৫মিনিট স্প্যান বসানো সম্পূর্ন হয়।
অর্থাৎ ২৯তম স্প্যানটি বসাতে সময় লাগে ২ঘন্টা ৪৫ মিনিট।
তিনি আরো জানান, এখন পর্যন্ত মাওয়া প্রান্তে ২০টি স্প্যানের মধ্যে ১০টি, মাঝের স্প্যান ০১ টি ও জাজিরা প্রান্তে ২০টি স্প্যানের মধ্যে ১৮টি স্থাপন করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ২৯টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। সেতুর জন্য প্রয়োজন ৪১টি স্প্যান তার মধ্যে মাওয়া এসেছে ৩৯টি । যার মধ্যে ২৯ টি স্থাপন করা হয়েছে এবং ১০ টি মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ওয়েল্ডিং, এ্যসেম্বলি ও পেইন্টিং এর কাজ চলছে। বাকী ০২ টি স্প্যান যা মিলে ২৩০টি নোড/কর্ড অংশ, এরই মধ্যে ১৯৩ চীন হতে মংলা বন্দরে পৌছেছে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মাওয়া পৌছে যাবে আশা করা যায়। অবশিষ্ট সর্বশেষ ৩৭ টি নোড/কর্ড অংশ চীনে তৈরি শেষে শিনহোয়াংডাও বন্দরে লোডিং হচ্ছে এবং তা ০৫ মে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে এবং জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে মাওয়া পৌছবে।
সাধারণত পদ্মায় প্রতিবছর বর্ষাকালে উজান থেকে প্রচুর পলি (প্রায় ২ বিলিয়ন টন পলি/সেডিমেন্ট) এসে মূল সেতুর পিয়ার- ১৭-৩৮ পর্যন্ত খননকৃত চ্যানেল বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী শুষ্ক মৌসুমে সেতুর জাজিরা প্রান্তে ড্রেজিং জটিলতা এড়ানোর জন্য পরবর্তী স্প্যান দুটি যত দ্রুত সম্ভব (৩০ শে জুনের আগেই) এ মৌসুমেই পিয়ার ২৬-২৭-২৮ এর উপর স্থাপন করা হবে।
উলেখ্য ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হলো ২৯টি স্প্যান। প্রতিটি স্পেনের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে সবকটি পিলার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।
মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে।


