২০২৫ সালের সেরার তালিকায় মুন্সিগঞ্জের শাহ সিমেন্ট নিয়ে সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেনের প্রতিবেদন
মুন্সিগঞ্জ, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের (জিআইজেএন) ২০২৫ সালের শীর্ষ ৮টি প্রতিবেদনের মধ্যে সপ্তম স্থান অর্জন করেছে দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেনের প্রতিবেদন- ‘ভয়াবহ নদী দখল: শাহ সিমেন্টের কবলে ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যার মোহনা’।
সাজ্জাদ হোসেন ডেইলি স্টারের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ও মুন্সিগঞ্জের সন্তান।
তালিকা সম্পর্কে বাংলাদেশে জিআইজেএন-এর সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের নেতৃত্ব দেয়া তানভীর মাহমুদ সুইডেনের লিনিয়াস ইউনিভার্সিটির ফোয়ো মিডিয়া ইনস্টিটিউট প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বাছাই করা হয়। সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয় আটটি প্রতিবেদন। মানদণ্ড নির্ধারণের বিষয়টি শুধু প্রভাব বা পরিচিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেদন তৈরিতে কঠোর অনুসন্ধানী পদ্ধতি, জোরালো তথ্য-প্রমাণ, নির্ভুলতা, নৈতিক রিপোর্টিং এবং ফলোআপের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমরা দেখি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আদৌ টিকে থাকে কি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে, নির্বাচিত প্রতিবেদনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংবাদমাধ্যমগুলি উচ্চমানের পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেছে, তাদের অনুসন্ধানে কোনও উল্লেখযোগ্য ফাঁক স্পষ্ট ছিল না, এবং প্রতিবেদনগুলির কেন্দ্রবিন্দু এবং সম্পাদনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। সাংবাদিকরা এমন বিষয়গুলি তুলে ধরেন যা সাধারণ মানুষের কাছে মূলত অজানা ছিল, যা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে; নতুন এবং লুকানো তথ্য উন্মোচন করা।’
এই বার্ষিক তালিকাটি গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের বাংলা ভাষা শাখা জিআইজেএন বাংলাদেশের বছরব্যাপী পর্যবেক্ষণের চূড়ান্ত ফলাফল।
তানভীর মাহমুদের মতে, এই প্রক্রিয়াটি বিশাল আকার ধারণ করে। বাংলাদেশী সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং আন্তর্জাতিক আউটলেটগুলিতে প্রকাশিত কয়েক ডজন অনুসন্ধানী এবং তথ্য-ভিত্তিক গল্প সারা বছর ধরে ট্র্যাক করা হয়।
প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি তদন্তের মধ্যে মাত্র আটটিই চূড়ান্ত ফলাফল অর্জন করে।
সাজ্জাদ হোসেনের সেই প্রতিবেদনে উঠে আসে, শাহ সিমেন্টের একটি কারখানা কীভাবে মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যার মোহনায় প্রায় ২৪ একর জমি দখল করেছে।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অবিলম্বে শাহ সিমেন্টকে কালো তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানায়।


