সরকারি জমি ও নদী দখল করে অবৈধ স্থাপনা করায় শাহ সিমেন্টের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল
38

মুন্সিগঞ্জ, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীর সংযোগস্থলে নদী ও সরকারি খাস জমি দখল করে শিল্প স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে শাহ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে অবৈধ দখল অপসারণ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশগত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) দায়ের করা জনস্বার্থমূলক রিট (রিট নং—৪৫৩৯/২০২৬)-এর প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

রুলে আদালত জানতে চান, মুন্সিগঞ্জ জেলার মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার ৩৯ নং মিরেরশ্বরাই মৌজা এবং ৪০ নং পূর্ব মোক্তারপুর মৌজায় ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীর সংযোগস্থলে নদী ও সরকারি খাস জমিতে শাহ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃক গড়ে তোলা অবৈধ দখল ও অননুমোদিত স্থাপনা অপসারণে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি, স্বেচ্ছাচারী ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না।

আদালত আরও জানতে চেয়েছেন, নদী ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং নদীর প্রবাহ ব্যাহত করার কারণে শাহ সিমেন্টের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।

বেলা জানিয়েছে, শাহ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীর সংযোগস্থলে প্রায় ৪৯ দশমিক ১০ একর নদীর জমি অবৈধভাবে দখল করে শিল্প স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এছাড়া নদী ও সরকারি খাস জমিসহ মোট প্রায় ৫৫ দশমিক ০৬ একর জমি বৈধ মালিকানা ছাড়া ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি।

মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দখলকৃত নদীর জমির ওপর স্টাফ শেড, ভেসেল লোডিং পয়েন্ট, সিমেন্ট উৎপাদন যন্ত্র, গুদামঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অবশিষ্ট অংশ সড়ক ও খালি জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

এদিকে পানি আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো) পূর্ব মোক্তারপুর মৌজার দখলকৃত অংশ থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিলেও অন্যান্য অংশে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়। পরে এ অবস্থায় জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করে বেলা।

মামলার বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন— পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওয়ারপোর মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান, মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও এবং শাহ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী। তাকে সহায়তা করেন এডভোকেট রুমানা শারমিন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১ জুন জাতীয় দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারে সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘ভয়াবহ নদী দখল: শাহ সিমেন্টের কবলে ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যার মোহনা’ প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক বিবৃতিতে শাহ সিমেন্টকে ‘নদীখেকো’ আখ্যা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করার দাবি জানায়। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচিত ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি পরে বর্ষসেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের স্বীকৃতিও লাভ করে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ