শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের সাথে তামাশা নয় বরং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিন
মুন্সিগঞ্জ, ৭ অক্টোবর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
শিক্ষক দিবস নিয়ে আমার তেমন কোন কথা নেই! যাদের প্রতি মন থেকে ভালোবাসা ও সম্মান এ রাষ্ট্র দেখায় না। তাদের জন্য এক দিন কেবল আলোচনা সভা করে, কিছু বক্তব্য উপস্থাপন করে এ রাষ্ট্র শুধু শিক্ষকের সাথে তামাশাই করতে জানে।
অথচ মানবিক রাষ্ট্র, আর্দশিক রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষকরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা সবাই নিজ উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকেই কর্মরত। তারা কিন্তু ৪৫% বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন। অথচ বেসরকারি মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমন অসংখ্য শিক্ষক আছেন যারা নিজ জেলা ছেড়ে দূরে বহু দূরে কর্মরত। বেসরকারি পর্যায়ে খুব কম শিক্ষক আছেন যারা নিজ বাড়িতে থেকে চাকুরী করেন। শতকরা হিসেব করলে সর্বোচ্চ ১০% হবে!
অথচ সরকার মহাশয় বলে দিলেন মাধ্যমিকের শিক্ষকরা বাড়ি থেকে চাকুরী করেন। তাই তাদের বাড়ি বাড়ানোর কি দরকার! যারা এ ধরণের হাস্যকর বক্তব্য রাখেন তাদের উচিত ব্যানবেস ও ইএমএস সেল হতে শিক্ষকদের কর্মস্থলের তথ্য যাচাই বাছাই করে বক্তব্য প্রদান!
শিক্ষক সমাজ আপনাদের ভুল তথ্যের বক্তব্য গ্রহণ করবেন না।
মাধ্যমিক ১,০০০ টাকা দিয়ে রাষ্ট্র কোথায় বাড়ি ভাড়া পাবেন, তা বলে দিক। তানাহলে ৫০০ টাকা বাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা বাড়ি ভাড়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের সাথে শিক্ষক দিবসে উপহাস করার সামিল। এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষক সমাজ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। যা সত্যিকার অর্থে মেনে নেওয়া যায় না!
হয়তো শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করেন, নচেৎ যুগের সাথে সামজস্য বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নির্ধারণ করেন। এক দেশে দুই রকম নিয়ম নীতির বৈষম্য শিক্ষকরা মানবেন না। যে বৈষম্যের কারণে রাষ্ট্রের এতো বড় পরিবর্তন ঘটে গেলো, সে বৈষম্যই যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় থেকে যায়-তাহলে শিক্ষকদের আন্দোলনে নামা ছাড়া উপায় থাকবে না!
এ রাষ্ট্র হবু মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের জন্য আগাম দামি গাড়ি ক্রয়ের অর্থ পায়, অথচ যারা মন্ত্রী পরিষদের সদস্য বানাতে সাহায্য করেন তাদের জীবনমান উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ নেন না! শিক্ষকরা তামাশা কিংবা উপহাসের সাথে নয় বরং মর্যাদার সাথে বাঁচতে চায়। রাষ্ট্রের উচিত সেদিকে যত্নবান হওয়া, আন্তরিক হওয়া।
লেখক: রমজান মাহমুদ, শিক্ষক ও গবেষক







