মোল্লাকান্দিতে আরিফ মীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মুন্সিগঞ্জ, ১২ নভেম্বর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ সদরের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চরডুমুরিয়া এলাকায় গত সোমবার (১০ নভেম্বর) আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দের জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় আরিফ মীর (৩৮) নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের ঘটনায় ২০৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে নিহতের স্ত্রী পারুল বেগম বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
এতে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আতিক মল্লিককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওয়াহিদ রায়হান মামলার দ্বিতীয় আসামি। এজাহারে ৫৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম সাইফুল আলম মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে আসামি গ্রেপ্তার ও দ্বন্দ প্রসঙ্গে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার স্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে দেয়া মন্তব্যে বলেন, ‘মোল্লাকান্দিতে অপরাধী কেউ ছাড় পাবে না। চরাঞ্চলে অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ভৌগোলিক কারণে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে অপরাধীদের ধরতে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। চর, মাঠ ও নদী থাকার কারণে তারা সহজেই পালিয়ে যায়। ভৌগোলিক কারণে তাদের প্রেফারেন্স বেশি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই তারা পালিয়ে যায়। তবে আমরা এবার ব্লক করে অভিযান চালাবো, ব্লক দিয়েই ধরবো। একটার পর একটা ঘটনায় আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। যেভাবে ঘটনা ঘটছে, সেভাবেই একে একে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ ভীষণ চ্যালেঞ্জের মধ্যে থেকেও কাজ করছে। তাই পুলিশের এই প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার।’
চরাঞ্চলের দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মোল্লাকান্দি এলাকায় আতিক মল্লিক ও ওয়াহিদ মোল্লাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ। আরেকপক্ষে আওলাদ মোল্লা, উজির আলী ও জাহাঙ্গীরদের নেতৃত্বে। আগে এলাকা ছিল আওলাদ মোল্লার দখলে, এখন প্রতিপক্ষ উঠেছে। মূল দ্বন্দ্ব এখানেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন দেখবেন কীভাবে একের পর এক সবাই জালে আসবে। এখন আমরা দেখাবো কীভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা হয়।’


