২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | সকাল ৮:২৭
মুন্সিগঞ্জে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় থানায় অভিযোগ
খবরটি শেয়ার করুন:
302

মুন্সিগঞ্জ, ১৮ নভেম্বর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ থেকে জাতীয় দৈনিক আমাদের সময়ে কর্মরত সাংবাদিক নাদিম হোসাইনকে (৩০) মেরে লাশ গুমের হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২ টার দিকে মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

সাংবাদিক নাদিম হোসাইন মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।

অভিযুক্ত সুজন সরকার পৌরসভার দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর নাছিমা আক্তারের ছেলে।

সুজন আওয়ামী লীগের সময় নিজেকে যুবলীগ কর্মী হিসাবে পরিচয় দিলেও সরকার পতনের পর যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে সাংবাদিক নাদিম অভিযোগ করেছেন।

সাধারণ ডায়েরি সুত্রে জানা যায়, গত পাঁচ বছর আগে শহরের শ্রীপল্লী এলাকার তাহমিনা পারভীন নামে এক নারীর কাছ থেকে টং দোকান করার জন্য জায়গা ভাড়া নেন নাদিম ও তাঁর বাবা কাজিম উদ্দিন। সে দোকানের জায়গার জন্য মাসিক ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধের মাধ্যমে নাদিমের বাবা চায়ের ব্যবসা করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর যুবদল কর্মী সুজন দোকানের জায়গাটি নিজেদের দাবি করে নাদিমদের দোকান ভেঙে দিতে চায়। পরবর্তীতে দোকানের জন্য নাদিমের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা চাঁদা নেয় সুজনরা। গত ৬ মাস আগে নাদিমরা দোকানের জায়গা ছেড়ে দিতে চান। তাহমিনারাও সে জায়গা অন্যত্র ভাড়া দিয়ে দেন। সোমবার রাতে বর্তমান ভাড়াটিয়ারা নাদিমদের টং দোকান সরিয়ে নিজেদের দোকান তোলেন। এতে সুজন ও তাঁর মা নাসিমা আক্তার সীমা মঙ্গলবার নাদিমকে ফোনের মাধ্যমে প্রেসক্লাবের সামনে ডেকে আনেন। সে সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়।

নাদিম হোসাইন আরও বলেন, আমি সুজনদের এলাকা দিয়ে নিয়মিত বাড়িতে একা যাতায়াত করি। সে যে কোনো সময় যে কোনো ঘটনা ঘটাতে পারে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমার নিরাপত্তা দাবি জানাচ্ছি।

সেইসঙ্গে সুজন যুবদল কর্মীর পরিচয় দেয়, তার দলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও এই ব্যাপারে বিচার চাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে সুজনের মা মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা কাউন্সিলর নাসিমা আক্তার সিমা বলেন, নাদিমের বাবা যে দোকানটি ভাড়া চালাচ্ছিল এটির মালিক আমরা। ওর বাবা যার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে দোকান চালাচ্ছিল তারা অবৈধ। দোকানটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য নাদিমকে বলা হয়। এর মধ্যে আরেকজন এসে নাদিমের দোকান ভেঙ্গে আরও একটি দোকান নির্মাণ করে। এতে আমার ছেলে সুজন নাদিমের সাথে রাগারাগি করে। মেরে ফেলার হুমকি দেয়নি।

এ ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজিব দে বলেন, একজন সাংবাদিকে হুমকি-ধমকির বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।