২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | সকাল ৮:১৭
মুন্সিগঞ্জে বন্ধুকে হত্যা মামলায় জামিনে থাকা আসামি জড়ালেন আরেক হত্যায়
খবরটি শেয়ার করুন:
451

মুন্সিগঞ্জ, ৫ নভেম্বর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ সদরে গত সোমবার (৩ নভেম্বর) হাত-পা বাঁধা ও কম্বল দিয়ে পেচানো অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অটোরিকশা চালক মোহাম্মদ মজিবল মাঝি (৪৪) হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৩ জনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জয় (৩১) নামের যুবক ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের শাখারিবাজাার এলাকায় তারই বন্ধু লিংকনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আসামি। ওই মামলায় জামিনে ছিলেন তিনি। এর মধ্যেই জড়িয়ে পড়েন আরেক হত্যাকাণ্ডে।

দেখুন এ নিয়ে আমাদের ভিডিও প্রতিবেদন:

অটোরিকশা চালক মজিবল হত্যায় গ্রেপ্তরকৃতরা হলেন- সোহাগ মোল্লা (৪৩), জয় (৩১), ইমরান (৩০), হারুন (৫১) ও আলী হোসেন (৪০)। প্রথম দুইজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও পরের দুইজন অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত।

আজ দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম সাইফুল আলম।

তিনি জানান, নিহত মজিবল বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি মুন্সিগঞ্জ সদরের রামপাল ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে অটোরিকশা চালাতেন। গত ৩১ অক্টোবর বিকালে তারই পূর্ব পরিচিত সোহাগ, জয় ও ইমরান মাওয়া যাওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে বের হন। রাতে পঞ্চসার ইউনিয়নের বানিক্যপাড়ার একটি বাসায় গিয়ে থাকেন তারা। সেখানে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে গলায় রশি পেঁচিয়ে, হাত-পা ধরে হত্যা করে মজিবলকে। জয় এসময় মজিবলের বুকে হৃদপিণ্ড বরাবর কেঁচি দিয়ে বুকে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিতে সহযোগিতা করে। পরে মরদেহটি তারা রতনপুরের দিকে নিয়ে ডোবায় ফেলে দেয়।

ওসি জানান, বন্ধু লিংকনকে একই কায়দায় কেঁচি দিয়ে হত্যা করেছিলো মর্মে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে জয়।

অন্যদিকে মজিবলের অটোরিকশাটি ধলাগাও এলাকার একটি গ্যারেজে নিয়ে হারুন নামক ব্যক্তির কাছে ৯৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে গ্রেপ্তারকৃতরা। পরে হারুন অটোটি ১ লাখ ১হাজার টাকায় বিক্রি করে আলী হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছে।

তাদের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া দুপুরে আসামিদের আদালতে প্রেরণের কথা জানান ওসি।