​মুন্সিগঞ্জে ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা: ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া প্রভাবশালী মহল
39

মুন্সিগঞ্জ, ৫ জুলাই ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় প্রতিবেশী এক যুবকের ধর্ষণে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র আদালতের বাইরে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এমনকি ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে ওই কিশোরীর গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের পৈক্ষারপাড় নয়াকান্দি গ্রামে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা একজন হতদরিদ্র ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি, যিনি স্থানীয় বাজারে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ৭-৮ মাস আগে কিশোরীটির মা (যিনি স্থানীয় এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন) মারা যান।

মা মারা যাওয়ার পর এবং বাবা মানসিকভাবে অসুস্থ থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী মহিউদ্দিনের ছেলে সাজিদ ওই কিশোরীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে সাজিদ তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে জানায় যে সে প্রায় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় কতিপয় মাতব্বর ও প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের বাধা দেন। তারা আদালতের বাইরে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিচার ও ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান।

অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত সাজিদকে বাঁচাতে এবং ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ওই প্রভাবশালী মহলটি কৌশলে ঘটনাটিকে ‘সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ’ হিসেবে রূপ দেওয়ার এবং কিশোরীটির জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

ভুক্তভোগীর বড় ভাই বলেন, এই ঘটনার সাথে সাজিদ জড়িত। তবে সে নিজেকে বাঁচাতে তার কয়েকজন বন্ধুর নাম জড়িয়ে বিষয়টিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় মাতব্বরেরা আমাদের বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় এবং আইনি পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করায় এতদিন আমরা কিছু করিনি। কিন্তু তাদের ওপর আস্থা রাখতে না পেরে আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাজিদ পলাতক রয়েছে। তার বক্তব্য জানতে বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বিকেল থেকেই সে আত্মগোপনে রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ প্রধান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। যেহেতু এটি ধর্ষণ সংক্রান্ত বিষয়, তাই ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ