২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
শনিবার | সকাল ৬:১৭
বিপদসীমা ছাড়িয়ে বন্যার পানি বাড়ছে মুন্সিগঞ্জে
খবরটি শেয়ার করুন:

মুন্সিগঞ্জ, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, বিশেষ প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)

উজান হতে নেমে আসা ঢলের পানিতে মুন্সিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে মানুষের ঘরবাড়ি।

মুন্সিগঞ্জের পদ্মা নদী দিয়ে তিব্র আকারে বইছে পানি। এতে একদিকে বৃদ্ধি পেয়েছে নদী ভাঙ্গন অন্যদিকে বন্যা দেখা দেওয়ায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ চরম বিপাকে পরেছে।

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পদ্মা নদীর তীর সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, লৌহজং, টংগিবাড়ী ও মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

টংগিবাড়ী উপজেলার পাচঁগাওঁ, পূর্ব হাসাইল, গারুর গাও, চৌসার, বানারী, মান্দ্রা, আটিগাওসহ প্রায় ৩০টি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে ওই সমস্ত গ্রামের অনেকের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী কলমা, কনকসার, হলদিয়া, কুমারভোগ, মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের নিচু গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করছে।

এদিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার, পূর্ব রাখি, শিলই, বাংলাবাজার এলাকায় বেশ কিছু ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। শিলই এলাকায় দির্ঘদিন যাবৎ নদী ভাঙ্গন চলছে

টংগিবাড়ী উপজেলার মধ্য হাসাইল গ্রামের বন্যাকবলিত আছমা বেগম বলেন, এক সপ্তাহ আগে নদীতে ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ার পর এই উচুঁ জমিতে ঘর বাড়ি এনে রাখছিলাম। এখন ৩দিন ধরে পানিতে তলিয়ে আছে। একদিকে নদী ভাঙ্গন অন্যদিকে বন্যায় আমাদের পুরো নিঃশ্ব করে ফেলেছে।

টংগিবাড়ী উপজেলার হাসাইল বানারী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস জানান, চরাঞ্চলের মান্দ্রা, নগরজোয়ার, বানারী, আটিগাও, বিদুয়াইল, হাজি নোয়াদ্দা গ্রাম বর্ষার পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই সাথে অনেক রাস্তাঘাটও পানিতে তলিয়ে গেছে। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সহযোগিতা পাইনি।

এ ব্যাপারে টংগিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা পারভীন বলেন, টংগিবাড়ী উপজেলার হাসাইল এলাকায় ৭০ জন এবং চৌসার এলাকায় ১০৫ জনকে গতকাল রোববার ত্রাণ সহয়তা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারী সাহয্য সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হামিদুর রহমান বলেন, সদর উপজেলার শিলই গ্রামের নদীর পাড় পদ্মার শাখা নদীতে কয়েক মাস ধরে ভাঙছে। এতে অনেক ঘরবাড়ি, কৃষি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ওই এলাকার অনেককে ত্রাণ এবং টিন সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ জেলায় বন্যার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জেলার ছয়টি উপজেলায় ৫ টন করে জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম সরকার জানান, রোববার মুন্সিগঞ্জের ভাগ্যকূল পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

error: দুঃখিত!