বিংশ শতাব্দী থেকে একবিংশ শতকে মুন্সিগঞ্জের জনপ্রিয় ৪ রাজনীতিকই এখন প্রয়াত
১২০

মুন্সিগঞ্জ, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে রাজনীতি চিনতে শেখা একটি প্রজন্মের কাছে মুন্সিগঞ্জ বিএনপি মানেই ছিলেন চার পরিচিত মুখ—বি. চৌধুরী, এম. শামসুল ইসলাম, মিজানুর রহমান সিনহা ও আব্দুল হাই। সময়ের পরিক্রমায় সেই চার রাজনীতিকই আজ প্রয়াত। তাঁদের কেউ ছিলেন বাগ্মিতায় অনন্য, কেউ দলীয় নেতৃত্বে, কেউবা রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় মানুষের কাছে পরিচিত। মুন্সিগঞ্জের রাজনীতির একেকটি অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই চার নেতার বিদায়ে যেন একটি সময়েরই অবসান ঘটল।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মুন্সিগঞ্জের একটি স্কুল মাঠে বিএনপির জনসভা দেখতে যাওয়ার স্মৃতি এখনো মনে গেঁথে আছে রমজান মাহমুদ নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী লেখকের। তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন- আগের দিন সেখানে আওয়ামী লীগের জনসভা হয়েছিল। কৌতূহল থেকে দুই দলের জনসভাতেই উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। রাজনীতির তেমন কিছু না বুঝলেও মঞ্চের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে নেতাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতেন।

শৈশবে বিএনপি বলতে তাঁর চোখে ভেসে উঠত এই চার নেতার মুখ। তখন মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন আব্দুল হাই, আর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন মজিবর রহমান মোল্লা।

স্মৃতিচারণে তিনি জানান, এম. শামসুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান সিনহা মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে খুব একটা সাবলীল ছিলেন না। অন্যদিকে, বি. চৌধুরী ও আব্দুল হাইয়ের বক্তব্য তাঁকে আকৃষ্ট করত। সেই জনসভায় বি. চৌধুরীর বক্তব্য তাঁকে তাঁর ভক্তে পরিণত করেছিল।

তবে আব্দুল হাইয়ের একটি দৃশ্য তাঁকে সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছিল। বড় নেতা হওয়া সত্ত্বেও মঞ্চে তাঁর জন্য নির্ধারিত চেয়ার ছেড়ে সামনের অংশে বসে পা ঝুলিয়ে বাদাম খাচ্ছিলেন তিনি। মঞ্চে অন্যরা যখন চেয়ারে বসে ছিলেন, তখন আব্দুল হাইয়ের এমন সাদামাটা ও স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ শৈশবের সেই দর্শকের মনে কৌতূহল তৈরি করেছিল।

এক এক করে নিভে গেল চার নক্ষত্র

পবিত্র কুরআনের ‘কুল্লু নাফসিন জায়িকাতুল মউত’—অর্থাৎ, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে’—এই চিরন্তন সত্যের কাছে হার মেনেছেন মুন্সিগঞ্জ বিএনপির সেই চার পরিচিত রাজনীতিকও।

এম. শামসুল ইসলাম ২০১৮ সালে, বি. চৌধুরী ২০২৪ সালে, মিজানুর রহমান সিনহা ২০২৬ সালের শুরুর দিকে এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর আব্দুল হাই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।

তাঁদের রাজনৈতিক পথচলা, নেতৃত্বের ধরন ও ব্যক্তিত্বে পার্থক্য থাকলেও মুন্সিগঞ্জের রাজনীতিতে প্রত্যেকেরই ছিল নিজস্ব অবস্থান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁরা নিজ নিজ জায়গা থেকে জেলার মানুষের জন্য বিভিন্ন অবদান রেখেছেন। তাঁদের কর্ম, রাজনৈতিক ভূমিকা ও ব্যক্তিগত স্মৃতি স্থানীয় মানুষের কাছে নানা কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

একসময় যাঁদের নাম ও উপস্থিতি মুন্সিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনকে প্রাণবন্ত করে রাখত, সময়ের ব্যবধানে তাঁদের সবাই এখন স্মৃতি। তাঁদের মৃত্যু শুধু কয়েকজন রাজনীতিকের প্রয়াণ নয়, বরং মুন্সিগঞ্জের রাজনীতির একটি পরিচিত সময় ও প্রজন্মের বিদায়ও বটে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ