ধলেশ্বরী নদী বাঁচাতে মুন্সিগঞ্জে দুইদিনের প্রতিবাদী কর্মসূচি শুরু
মুন্সিগঞ্জ, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, সদর প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, শিল্পকারখানা ও পৌরসভার ড্রেনের বর্জ্যে ধলেশ্বরী নদী দূষণ ও দখলের প্রতিবাদে এবং ‘ধলেশ্বরী নদী বাঁচাও’ স্লোগানে দুই দিনের প্রতিবাদী কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
কর্মসূচির প্রথমদিন শনিবার মুন্সিগঞ্জের নাগরিক সমাজ একটি শোভাযাত্রা বের করে।
জেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বর থেকে বিকেলে ৪টায় ধলেশ্বরী নদী রক্ষার দাবিতে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো প্রদক্ষিণ করে শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে প্রতিবাদী নৃত্য, সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়।
সন্ধ্যায় মান্নান হিরার রচনায় ও শিশির রহমানের নির্দেশনায় মুন্সিগঞ্জ থিয়েটার সার্কেল পরিবেশন করে নাটক “ধলেশ্বরী কাব্য গাঁথা।”
ধলেশ্বরী বাঁচাও কর্মসূচিতে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এবং মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজী মো. ফয়সাল বিপ্লব, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মুন্সিগঞ্জ জেলা শাখা, মুন্সিগঞ্জ যুব রক্তদান সংস্থা সহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন একাত্মতা ঘোষণা করেন।
ধলেশ্বরী নদী দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে মুন্সিগঞ্জ নাগরিক সমন্বয় পরিষদ স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন।
সংগঠনের আহবায়ক এড. সুজন হায়দার জনির সভাপতিত্বে এই কর্মসূচিতে মুন্সিগঞ্জের সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ বক্তব্য রাখেন এবং তারা বলেন, প্রতিবাদ নয়, ধলেশ্বরী নদী রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা এবং শীতলক্ষ্যা নদীও রক্ষা করতে হবে। ধলেশ্বরী নদীর তীরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ও শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য এবং অ্যাশ যেমন নদী ও পরিববেশ দূষণ করছে, তেমনি বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার বিষাক্ত পানিও ধলেশ্বরীতে এসে যুক্ত হচ্ছে।
এদিকে, প্রতিবাদী নাগরিক সমাবেশের দ্বিতীয় দিনে আগামীকাল রোববার বিকেল ৩টায় মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকায় একই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।


