জনপ্রিয় রাজনীতিক আব্দুল হাইয়ের জীবনাবসান, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রথম জানাজা
১৪৭১

মুন্সিগঞ্জ, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক উপমন্ত্রী, সাবেক প্যানেল স্পিকার, সাবেক বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই (৭৭) আর নেই।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তারা জানান, আব্দুল হাইয়ের জানাজা চার স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিকাল ৪টায় দ্বিতীয়, সন্ধ্যার পর মুন্সিগঞ্জ শহরের সুপারমার্কেট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে তৃতীয় জানাজা এবং রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মিরেশ্বরাই আলিয়া মাদ্রাসার ঈদগাহ মাঠে চতুর্থ ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

তাঁর মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অটল নীতি, ব্যক্তিগত নৈতিকতা, সাদামাটা চলাফেরা ও সহজ বাচনভঙ্গির কারনে দলমত নির্বিশেষে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে এ অঞ্চলে।

আব্দুল হাই মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে ১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার পিতা মনির উদ্দিন ব্যবসায়ী ছিলেন। তার স্ত্রী জামিলা খাতুন। তিনি দুই পুত্র সন্তান ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। তার বড় ভাই মহিউদ্দিন আহমেদ ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব। মুন্সিগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যলয় থেকে তিনি মাধ্যমিক পাশ করে মুন্সিগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিএ পাস করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর সংসদীয় রাজনীতির যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুন এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মুন্সিগঞ্জ-৪ আসনের (বিলুপ্ত) প্রতিনিধিত্ব করেন।

ঢাকা-৮ ও মুন্সিগঞ্জ-৪ আসনে তিনি পাঁচবার নির্বাচিত হন।

পঞ্চম জাতীয় সংসদে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি প্যানেল স্পিকার নির্বাচিত হন। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কোষাধ্যক্ষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

মুন্সিগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা এই প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী, অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ