ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জ অংশে থাকবে মোবাইল কোর্ট
মুন্সিগঞ্জ, ৮ মার্চ ২০২৬, ডেস্ক রিপোর্ট (আমার বিক্রমপুর)
আসন্ন ঈদুল ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জ অংশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
আজ রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মুন্সীগঞ্জ সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মৌসুমী মাহবুব, সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম, জেলার বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সভায় ঈদকে সামনে রেখে সড়কপথে যানজট নিরসন, যাত্রীসেবা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় যে, সড়কপথে নিরাপত্তা জোরদার ও সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটি এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হবে। ঈদযাত্রার সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে।
পাশাপাশি সড়কপথে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অনিয়ম প্রতিরোধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, পুরাতন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন যাতে ঈদের সময় সড়কে চলাচল করতে না পারে সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্কশপগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। সড়কপথে যানজট নিরসন ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী ভলান্টিয়ার বাহিনী নিয়োজিত করা হবে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ঢাকা–মাওয়া–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং অন্যান্য সংযোগ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের টহল কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষ করে মাওয়া টোল প্লাজাসহ সংশ্লিষ্ট টোল প্লাজাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে।
সভায় বাসস্ট্যান্ড ও গণপরিবহনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি ও অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে তদারকি করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ঈদযাত্রার সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জেলার হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।


