আমার বিক্রমপুরে জলাবদ্ধতার খবরে চিন্তিত এমপি, এবার পরিদর্শনে গেলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক
মুন্সিগঞ্জ, ৫ জুলাই ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের বণিক্যপাড়া এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ ড্রেন নির্মাণের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার সংবাদ আমার বিক্রমপুরে প্রকাশের পর একের পর এক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতনের হস্তক্ষেপের পর এবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এ.কে.এম ইরাদত মানু।
আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বণিক্যপাড়া এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা শোনেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, আগে যে পরিকল্পনায় ড্রেনের অর্ধেক অংশ নির্মাণের কথা ছিল, সেটি পরিবর্তন করে জেলা পরিষদের অর্থায়নে পুরো ড্রেন নির্মাণ করে দেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
জেলা পরিষদ প্রশাসকের এমন ঘোষণায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন মানুষের সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন বলেই এত দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। অনেকেই তাকে ‘প্রকৃত জনতার নেতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এর আগে শুক্রবার সকালে আমার বিক্রমপুরে ‘জলাবদ্ধতা: রাস্তা বানাতে গিয়ে ড্রেনের লাইন মানুষের বাড়িতে দিয়ে দিল ঠিকাদার, এ কেমন অনিয়ম?’ শিরোনামে একটি ভিডিও সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন তার স্ত্রী নুর-ই জান্নাত রোশনীর মাধ্যমে স্থানীয় কর্মী মাহফুজা আফরিন রজনীকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শন শেষে এলাকার জলাবদ্ধতার প্রকৃত কারণ, ড্রেন নির্মাণের ত্রুটি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিষয়টি সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
আমার বিক্রমপুরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হলেও এর সংযোগ এমনভাবে দেওয়া হয়েছে যে বৃষ্টির পানি সরকারি খালে প্রবাহিত না হয়ে স্থানীয়দের বাড়িঘরের দিকে চলে যাচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়ছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি ছিল, পুরোনো ড্রেনের মতো নতুন ড্রেনের সংযোগও পাশের সরকারি খালের সঙ্গে যুক্ত করা হলে দীর্ঘদিনের এ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
সংবাদ প্রকাশ, সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ এবং জেলা পরিষদ প্রশাসকের সরেজমিন পরিদর্শনের পর পুরো ড্রেন নির্মাণের ঘোষণায় এখন দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন বণিক্যপাড়ার বাসিন্দারা।










