আড়িয়াল বিলের উন্নয়নে ৩৪১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন: শ্রীনগরের জন্যই ১৭৮ কোটি
মুন্সিগঞ্জ, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের আড়িয়াল বিল এলাকার জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘পানি ও ভূমি সম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন জানান, ৩৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই প্রকল্পের একটি বড় অংশ বাস্তবায়ন হবে শ্রীনগর উপজেলায়।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে পরিকল্পনা কমিশনের স্মারক নম্বর ২০.০০.০০০০.৪১১.১৪.৪৭.২৬-৩৯৭ এর বরাতে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৮ পর্যন্ত।
ইউএনও আরও জানান, মোট বাজেটের মধ্যে কেবল শ্রীনগর উপজেলার জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৭৮ কোটি ১ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন করা হবে। খালগুলো হলো— ভাগ্যকুল খাল, কামারগাঁও খাল, নাগ নন্দী ভাগ্যকুল খাল, নয়াবাড়ি খাল, কাঁঠালবাড়ি খাল, তালুকদার বাড়ি খাল, জাহানাবাদ খাল, খড়িয়া খাল, রাঢ়ী খাল, শ্রীনগর খাল, শ্যামসিদ্ধি খাল, জাগদার খাল, দেওভোগ খাল ও আরধিপাড়া খাল।
শুধু খাল খননই নয়, আড়িয়াল বিলের পানি ব্যবস্থাপনা সুসংহত করতে প্রকল্পের আওতায় ১২টি পুকুর বা ডেঙ্গা পুনঃখনন, ২০০ মিটার ইউ-ড্রেনসহ বক্স কালভার্ট নির্মাণ, ১১ হাজার ৫১০ মিটার স্লোপ সংরক্ষণ এবং ১৫ হাজার ৬৯৫ মিটার সতর্কতামূলক প্রতিরক্ষা (Protection Work) কাজ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ইউএনও’র তথ্যমতে, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করতে ইতোমধ্যে ৮টি খালের দরপত্র (Tender) আহ্বান প্রক্রিয়াাধীন রয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছে— খড়িয়া খাল, জাহানাবাদ খাল, কাঁঠালবাড়ি খাল, তালুকদার বাড়ি খাল, কামারগাঁও খাল, দেওভোগ খাল, আরধিপাড়া খাল ও রাঢ়ী খাল।
এই সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হলো আড়িয়াল বিলের প্রাকৃতিক ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা। এছাড়া নদী ও জলাভূমির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জলাধারের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে সেচ সুবিধা ও মৎস্য চাষ বৃদ্ধি করা এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
শ্রীনগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই প্রকল্প অনুমোদনের ফলে এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন আড়িয়াল বিল সংলগ্ন কৃষি ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। ধারাবাহিকভাবে এলাকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোকেও পরবর্তী ধাপে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রকল্প প্রণয়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।


