অবশেষে মিললো ইরাক প্রবাসী হবি মিয়ার মরদেহের সন্ধান, অপেক্ষায় পরিবার
মুন্সিগঞ্জ, ৩০ মার্চ ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
ইরাকে ইরানের মিসাইল হামলায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি হবি মিয়া পাইক ওরফে মোহাম্মদ শ্রাবণের মরদেহ ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো দেশে ফেরেনি।
প্রথমদিকে এ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলেও সম্প্রতি সরকারিভাবে তার মরদেহের খোঁজ পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, মরদেহটি দেশে আনতে আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। সেদেশে এই মুহুর্তে কিছু অভ্যন্তরীণ সংকট চলছে, সেসব কেটে গেলে আশা করছি দ্রুত মরদেহ দেশে নিয়ে আসতে পারবো।
জানা গেছে, ইরাকে বসবাস ও কাজের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মরদেহ খুঁজে পেতে বিলম্ব হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর।
এদিকে, গত শনিবার সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের বকুলতলায় নিহতের পৈত্রিক বাড়িতে গেলে দেখা যায়,
সন্তান হারিয়ে গগনবিদারী কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা লাকি বেগম।
জানা গেল, পরিবারের স্বপ্ন ছিল দীর্ঘ ১০ বছর পর একসাথে থাকার। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নতুন করে সংসার গড়ার পরিকল্পনায় বাড়ির পাশেই জমিও কিনেছিলেন হবি মিয়া। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না—তিনি ফিরছেন লাশ হয়ে।
এসময় নিহত হবি মিয়ার স্ত্রী খাদিজা আক্তার নিতু বলেন, “১০ বছর পর ও দেশে আসবে—এই আশায় ছিলাম। মেয়েরা প্রতিদিন বাবার জন্য অপেক্ষা করে। এখন শুধু চাই, শেষবারের মতো যেন তাকে দেখতে পারি।”
বড় মেয়ে উম্মে হাবিবা (১৬) ও ছোট মেয়ে নাফিজা জাহান আলিশাও (৯) বাবার মরদেহের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় ২০১৬ সালে মুন্সিগঞ্জ সদরের বকুলতলা এলাকার বাসিন্দা হবি মিয়া পাইক নিজের নাম পরিবর্তন করে মোহাম্মদ শ্রাবণ নামে ইরাকে পাড়ি জমান। বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও প্রায় ১০ বছর সেখানেই অবস্থান করছিলেন। গত ১৬ মার্চ পরিবারের কাছে খবর আসে, ইরাকে ইরানের মিসাইল হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি।
হবি মিয়ার বাবা নলি মিয়া পাইক বলেন, “আমার ছেলেকে একবার দেখতেও পারলাম না। সরকারের কাছে অনুরোধ, যেন দ্রুত লাশটা দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”
এদিকে, অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) এর মুন্সিগঞ্জ মাঠ কর্মকর্তা ইউজিন ম্রং বলেন, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশে গেলে এমন জটিলতা তৈরি হয়। তাই যারাই বিদেশে যান তারা যেন পরিবারের কাছে পাসপোর্ট, ভিসা ও যেখানে কাজ করেন সেখানকার বিস্তারিত এক কপি সবসময় পরিবারের কাছে দিয়ে রাখেন।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপসহকারী পরিচালক মালেকা বেগম বলেন, “বৈধ কাগজপত্র না থাকায় প্রথমদিকে কিছু প্রক্রিয়াগত জটিলতা ছিলো। তবে আমরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছি।”
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এখন পর্যন্ত ইরাকে নিহত হয়েছেন অন্তত ৯৬ জন। এর মধ্যে রয়েছেন দুই বাংলাদেশি। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।





