মুন্সিগঞ্জে স্বর্ণের দোকানের ভেতর পড়েছিল কর্মচারীর উলঙ্গ মরদেহ
মুন্সিগঞ্জ, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার হাসাইল বাজারে একটি স্বর্ণের দোকান থেকে সুমন দে (৪৫) নামে এক কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার সকালে দোকানের ভেতর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উলঙ্গ অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিলেন।
নিহত সুমন দে উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মৃত নারায়ণ দে এবং মা মৃত পুষ্প রানী দে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমন দে দীর্ঘদিন ধরে হাসাইল বাজারের অমিত সরকার গোবিন্দের স্বর্ণের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। বাড়ি দূরে হওয়ায় তিনি প্রতি সপ্তাহের শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দোকানেই থাকতেন।
গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে দোকানের মালিক অমিত সরকার গোবিন্দ সুমনকে দোকানে রেখে বাড়িতে চলে যান। রাত ১১টার দিকে সুমন তাঁর স্ত্রী স্বরসতী দে (৪০)-এর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন।
প্রতিদিন সকাল ৬টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে দোকান খুলতেন সুমন। তবে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দোকান না খোলায় পাশের চালের দোকানের ব্যবসায়ী মঞ্জু রায় (৫৬) তাঁকে মোবাইল ফোনে কল করেন। কিন্তু ফোনে সাড়া না পাওয়ায় তিনি আশপাশের কয়েকজন দোকানদারকে নিয়ে দোকানের শাটারে ধাক্কা দেন। এ সময় শাটারের এক পাশ খোলা দেখতে পান তাঁরা।
পরে শাটার তুলে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে সুমন দেকে উলঙ্গ ও মৃত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এরপর তাঁরা দ্রুত শাটার নামিয়ে দোকানের মালিক অমিত সরকার গোবিন্দ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান দেওয়ানকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে টংগিবাড়ী থানা পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
টংগিবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম আহমেদ বলেন, ‘নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দোকানের মালিক ও আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর সুমন দের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’









