মুন্সিগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় স্ত্রী’কে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন ইমাম, আদালতে স্বীকারোক্তি
মুন্সিগঞ্জ, ৯ জুলাই ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার বলিয়াগাঁও ইউনিয়নে গৃহবধূ মোছা. আছমা আক্তার (২৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত স্বামী মো. মুহাসিন মাতুব্বরকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপ-পুলিশ পরিদর্শক রনি দেবনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গতকালমঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকালে আমলি আদালত-৪-এ হাজির করা হলে বিচারক শফিকুল ইসলাম-এর আদালতে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই জানায়, টংগিবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব বালিগাঁও এলাকায় জনৈক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম শেখের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন আছমা আক্তার ও তার স্বামী মুহাসিন মাতুব্বর। তাদের সঙ্গে ছিল চার বছর বয়সী কন্যা মাইশা আক্তার।
আসামি জবানবন্দিতে জানান, প্রায় চার মাস আগে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়। তবে আছমা আক্তারের পূর্বে দুইবার বিয়ে হয়েছিল, যা স্বামীর কাছে গোপন রাখায় তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত।
পিবিআই জানায়, ঘটনার আগের দিন এশার নামাজের পর বাসায় ফিরে পুরোনো জামা পড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মুহাসিন আছমাকে মারধর করেন এবং তার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন।
ঘটনার দিন ৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাশতা প্রস্তুত না থাকায় আবারও তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। এ সময় আছমা মাথাব্যথার কথা জানালে মুহাসিন তার পূর্বের বিয়ে নিয়ে কটূক্তি ও গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি আছমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং গলায় চেপে ধরে ধাক্কা দিলে তিনি কাঠের পাটাতনে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে একটি কালো ওড়না দিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে মরদেহ ঝুলাতে ব্যর্থ হয়ে খাটের ওপর রেখে চার বছরের মেয়েকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. শামীম তালুকদার বাদী হয়ে টংগিবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়, সাংসারিক কলহ ও মনোমালিন্যের জের ধরে ৬ জুলাই সকাল ১১টা ১০ মিনিট থেকে ১১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে আছমা আক্তারকে মাথা, গলা, শ্বাসনালী ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করে হত্যা করা হয়।
পরে ৭ জুলাই পিবিআই মুন্সিগঞ্জ স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। অতিরিক্ত আইজিপি (পিবিআই) মো. মোস্তফা কামালের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান, বিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) রনি দেবনাথের নেতৃত্বে একটি দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মুহাসিন হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাকে আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।









