মুন্সিগঞ্জে ধর্মীয় উসকানির অভিযোগে কলেজ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা, ব্লাসফেমি আইনের দাবি আলেমদের
মুন্সিগঞ্জ, ১৮ আগস্ট ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও ধর্মীয় উসকানির অভিযোগে মুন্সিগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থী কানাই চন্দ্র দাস ওরফে আকাশ দাসের (২৫) বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় আজ সোমবার রাত ৮টার দিকে মামলা দায়ের হয়েছে। এর আগে আজ সোমবার দুপুরে তাকে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে, এ ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি ও ব্লাসফেমি আইনের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে আলেম-ওলামারা। সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। পরে মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদী সভা হয়৷
এসময় বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় ইসলামকে না নেয়া পর্যন্ত এ দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে না। এদেশে ধর্ম অবমাননার ব্লাসফেমি আইন নাই। এটি লজ্জাজনক। হরগঙ্গা কলেজে গুপ্ত সিন্ডিকেট আছে। যারা বিভিন্ন সময় ফেইক আইডি থেকে ইসলামকে অবমাননা করে। তাদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থী আকাশ দাস চাদপুরের কচুয়া উপজেলার রুহি দাসের ছেলে। তিনি সদ্য সরকারি হরগঙ্গা কলেজের গনিত বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রবাসেই থাকতেন তিনি।
কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কানাই দাস হিন্দু ধর্মের হলেও তার মধ্যে ধর্মীয় কোনো বিশ্বাস ছিল না। তিনি ধর্মের বিপরীতে কথা বলতেন। ইসলাম ধর্ম ও রাসূল (সা.) নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কটাক্ষ করতেন। নাস্তিক মঞ্চ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে তিনদিন আগে (শুক্রবার) একটি পোস্টে সে ইসলাম বিরোধী মন্তব্য করেন। তার ওই মন্তব্যটি কলেজের শিক্ষার্থীরা একে অপরের কাছে পাঠায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনার জের ধরে আজ সোমবার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে জড়ো হন। পরবর্তীতে পুলিশ দুপুরের দিকে কানাই দাসকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাস্তিক মঞ্চ (Atheist Forum) নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে এ এম কেরামত ওয়ালা (M Keramot Wala) নামে ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোষ্টে লেখা হয়- ‘প্রিয় মুমিন মুসলিম ভাইয়েরা, আমি একজন এক্স মুসলিম। আমি আল্লাহর উপর বিশ্বাস হারিয়েছি। এখন কেউ যদি যুক্তি প্রমাণ দিয়ে বোঝাতে পারেন আমি আবার ইসলামে ফিরে যাবো।’
পোষ্টটির মন্তব্যের ঘরে Akash Das আইডি থেকে কানাই দাস লিখেন, ‘তুমি আসাদ নুর, আসিফ মহিউদ্দিন ভাইয়ের ভিডিও দেখ। তখন তুমি তোমার মত হাজার হাজার মানুষের সন্ধান পাবে। এই ধর্মের ভন্ডামি থেকে বের হবে, মুক্ত চিন্তার মানুষ হয়েছে।’
কানাই দাসকে আটক করে থানায় আনার পর কথা হয় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। কানাই দাস বলেন, আমি এমন মন্তব্য করে ভুল করেছি। আমি এর জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছি। সামনের সময়ে এমন কোন কিছু করবো না।
কানাই আরো বলেন, ‘আমরা তিন ভাই। আমি সবার ছোট। আমার বাবা ও বড় দুই ভাই জেলে। তারা মাছ ধরে মাছ বিক্রি করে আমাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। আমাকে নিয়ে তাদের অনেক স্বপ্ন। আমি চাকরি করে সংসারের হাল ধরবো। আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়ে গেলে আমি আর চাকরি করতে পারবোনা। আমার সমস্ত সংসারের আশা স্বপ্ন-ভঙ্গ হয়ে যাবে।’




