আব্দুল হাইয়ের প্রথম জানাজা ঢাকায় বিকাল ৩টায়, সন্ধ্যার পর সুপারমার্কেটে ও রাতে মিরেশ্বরাইয়ে
৪৯৫

মুন্সিগঞ্জ, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল হাইয়ের জানাজা চার স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিকাল ৪টায় দ্বিতীয়, সন্ধ্যার পর মুন্সিগঞ্জ শহরের সুপারমার্কেট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে তৃতীয় জানাজা এবং রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মিরেশ্বরাই আলিয়া মাদ্রাসার ঈদগাহ মাঠে চতুর্থ ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মুন্সিগঞ্জের মানুষের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই নেতার মৃত্যুতে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁর জানাজায় অংশ নিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মী, রাজনৈতিক সহকর্মী, অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন আব্দুল হাই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল হাই। তাঁর বাবা মনির উদ্দিন ছিলেন ব্যবসায়ী। স্ত্রী জামিলা খাতুন, দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে তাঁর পারিবারিক জীবন। তাঁর বড় ভাই মহিউদ্দিন আহমেদও জেলা বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

মুন্সিগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং মুন্সিগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও বিএ পাস করেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করার সংগ্রামেও অবদান রাখেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর সংসদীয় রাজনীতির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুন এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ঢাকা-৮ ও মুন্সিগঞ্জ-৪ আসন থেকে মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর।

রাজনৈতিক জীবনে আব্দুল হাই বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

পঞ্চম জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে অষ্টম জাতীয় সংসদে প্যানেল স্পিকার নির্বাচিত হন। সংসদীয় রাজনীতি ও দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা তাঁকে মুন্সিগঞ্জের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যায়।

রাজনৈতিক পদ-পদবির পাশাপাশি ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের কারণেও মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন আব্দুল হাই। অটল নীতি, ব্যক্তিগত নৈতিকতা, সাদামাটা চলাফেরা ও সহজ বাচনভঙ্গি তাঁকে দলমত-নির্বিশেষে অনেকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জেলার রাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। জানাজার মাধ্যমে তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে মুন্সিগঞ্জে অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জ হারাল দীর্ঘদিনের এক পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে অবদান এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার স্মৃতি জেলার রাজনীতিতে আলোচিত হয়ে থাকবে।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ