১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বুধবার | রাত ২:৩২
সড়ক যেন চাষের জমি, লাগানো হলো ধানের চারা
খবরটি শেয়ার করুন:
225

মুন্সিগঞ্জ, ৫ আগস্ট ২০২৫, নাজমুল হাসান শাওন (আমার বিক্রমপুর)

সড়ক যেন চাষের জমি- সমান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান কাদা। বর্ষা এলেই এই রাস্তায় চলাচল যেন দুর্বিষহ এক যাত্রা। বছরের পর বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকাবাসী।

প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের মুখ দেখেনি। বারবার দাবি জানিয়েও কাজ না হওয়ায় অবশেষে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানালেন স্থানীয়রা।

গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলার কুচিয়ামোড়া, কলেজ রোড, গোডাউন বাজার, পাথঘাটা শাহী বাজার ও রামকৃষ্ণদি এলাকায় হয় এক মানববন্ধন। এতে কেয়াইন, বাসাইল ও লতব্দী ইউনিয়নের অন্তর্গত ২২টি গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে হাজারও মানুষ চলাচল করে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রোগী, শ্রমজীবী মানুষ সবাই ভোগান্তির শিকার। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সড়কের কোনো সংস্কার হয়নি। আমাদের কথা যেন কেউ শুনতেই চায় না।’

স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী শামীম সরদার বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আমাদের এলাকার সন্তান। তার বাড়ি এই সিরাজদিখান। তার এলাকার রাস্তা যদি এই অবস্থা হয় তাহলে সেটা খুব লজ্জাজনক”।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, বর্ষা মৌসুম এলেই রাস্তাটি কাঁদায় পরিণত হয়। কয়েকটি স্থানে হাঁটুপানি জমে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে জুতা খুলে হাতে নিয়ে হেঁটে চলেন। বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের পক্ষে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সড়ক সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন খান খোকন বলেন, ‘আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সদস্য হয়েছি, কিন্তু বাস্তবতা হলো, কোনো কাজই করতে পারছি না। মানুষ আমারে ঘুমাতেও দেয় না। প্রতিনিয়ত অভিযোগ করে- রোগী নিয়ে ঠিকমতো হাসপাতালে যেতে পারে না, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমি নিজেও অসহায় বোধ করি। সরকার যদি আমাদের অনুদান বা প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিত, তাহলে অন্তত কিছু একটা করে মানুষের কষ্ট একটু হলেও কমানো যেত।’