মুন্সিগঞ্জে রাতের আঁধারে ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ীকে হত্যা, ৪ দিনেও কুলকিনারা নেই
মুন্সিগঞ্জ, ১৪ জুলাই ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় রাতের আঁধারে ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী সাহেব আলী (৫৮) হত্যার ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোন কুলকিনারা পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখনো চিহ্নিত বা আটক হয়নি কেউ। এ নিয়ে স্বজনরা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের পশ্চিম ঘোড়ামারা এলাকার মধ্যনগর জামে মসজিদ থেকে এশার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে অন্ধকার মাটির রাস্তায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কাছে ছুরিকাহত হন সাহেব আলী। সেদিন রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। পরে মরদেহ ফিরিয়ে এনে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় ১২ জুলাই সিরাজদিখান থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী আলেয়া বেগম। মামলায় ব্যবসা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের সূত্র ধরে স্থানীয় ৫ জনের নামোল্লেখসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। নিহত সাহেব আলী ওই এলাকার মৃত ছাবেদ আলীর ছেলে। তিনি নিয়মিত মাছ চাষ ও পাশাপাশি জমিজমার ব্যবসা করতেন। আসামিদের বেশিরভাগই জমিজমার ব্যবসা করেন। কয়েকজন জড়িত স্বর্ণ ব্যবসার সাথে।
সিরাজদিখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান মামলার তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে, তিনি আসামিদের ব্যাপারে তথ্য দেননি। বলেছেন, যেহেতু কাউকে চিহ্নিত বা কাউকে আটক করা যায়নি সেক্ষেত্রে নাম প্রকাশ করে দিলে মামলার তদন্ত কাজ ব্যাহত হতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, গত ১০ জুলাই রাত ৯টার দিকে নিহত সাহেব আলী এশার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় মসজিদের সামনের কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে পেছন থেকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত সাহেব আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত ব্যবসায়ী সাহেব আলীর পুত্র সোহাগ শেখ বলেন, ‘আমার বাবা মাছের ব্যবসা ও জমিজমার ব্যবসা করতো। স্থানীয় কয়েকজনের সাথে তার দ্বন্ধ ছিলো। তারা বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দিয়েছে আমার বাবাকে। তারাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় তারা ব্যাপক প্রভাব দেখাতো। রাজনৈতিক প্রভাব না থাকলেও টাকা-পয়সার গরম দেখাতো সবসময়।’
‘আমি আমার বাবা হত্যার বিচার চাই ভাই, আমার বাপডারে ওরাই মারছে। কিন্তু কেউ এটা নিয়া কিছুই করতাছে না।’- বলেন সোহাগ শেখ।
পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, ঘটনাটি উদঘাটনের।’





