শ্রীনগরে সরকারি রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণ; প্রতিবেশীদের যাতায়াত করতে হয় নৌকায়
মুন্সিগঞ্জ ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯, মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাস্তা দখল করে বাড়ি-ঘর নির্মাণের কারনে কয়েকটি পরিবারকে ১২মাস ধরে যাতায়াত করতে হচ্ছে নৌকায়।
উপজেলার শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের গাদিঘাট গ্রামের মাঝেরহাটি এলাকার প্রভাবশালী আবুল হাসেম মুন্সী দীর্ঘদিন যাবৎ রাস্তাটি দখল করে রাখায় ভোগান্তিতে পরেছে এলাকাবাসি।
শুধু তাই নয়! পাশের বাড়ির নুরুল হক আয়নাল হক সহ অনেক অসহায় দরিদ্রদের কে সরকারি রাস্তা ব্যবহার করতে দিচ্ছেন না এই দখলদার।
বাধ্য হয়ে অসহায় দরিদ্রদের নৌকা দিয়ে ঘুরে রাস্তায় আসতে দেখা যায়। প্রায় তিন বছর ধরে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই পরিবার গুলোর। কয়েক দফা দরবার করেও হয়নি কোন সমাধান।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গাদিঘাট মাঝের হাটির মুন্সীবাড়ি ও হাটি পাড়ায় ২ শতাধিক পরিবারের বসবাস। এই ৩টি পাড়া মহল্লায় যাতায়াতের এক মাত্র ভরসা এই রাস্তাটি। গাদিঘাট মৌজার আর.এস ০১ খতিয়ানের আর.এস ২৫১২ দাগের রাস্তা, যা ২শত মিটার অধিক দীর্ঘ ও ৯ ফুট প্রসস্থ। সরকারি এস.এ ও আর.এস পর্চা ও ম্যাপে থাকলেও তা বাস্তবে নেই।
দেখা গেছে কোথাও ৪ ফুট আবার কোথাও ৬ ফুট কোথাও রাস্তাটি পুরোপুরি ক্ষমতাশীলদের দখলে ও রাস্তার দুই পাশেই আরো ০৮/১০ টি বাড়ি ২/৩ফুট করে দখল করে রেখেছে।
রাস্তায় শেষের দিকে বাড়ি মালিক হাসেম মুন্সী, পুরো রাস্তাটি দখল করে পাকাবাড়ি নির্মাণ করায় রাস্তাটি সরকারি ম্যপের জায়গায় নেই, পাশের বাড়ির উপর দিয়ে সরু হয়ে গেছে। তাতে ওই বাড়ির মালিক নিজ বসত ঘড় সরিয়ে দিয়েছেন মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে অনেক আগে।
সীমাহীন দূর্ভোগের কারনে গত কয়েক বছর আগে এই রাস্তাটিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইট বিছানো কাজ শুরু করলেও রাস্তার জায়গাটি দখল করে রাখার কারনে পুরো কাজটি সংস্কার না করেই বন্ধ করে দিতে হয় কাজ। এরপর থেকে আজও রাস্তাটি সংস্কার করা হয়নি।
এই রাস্তাটি উদ্ধার এবং সংস্কারের দাবীতে এলাকাবাসীর পক্ষে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন গাদিঘাট মাঝের কান্দি গ্রামের ভুক্তভোগীরা।
এরই ধারাবাহিকতায় শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি কর্মকর্তা টুটুল আহমেদ ঘটনাস্থল তদন্তে যান।
এলাকার ভুক্তভোগী নুরুল হক জানান, ‘হাসেম মুন্সীর অত্যাচারে আমরা দুই ভাই মোঃ আয়নাল হক সহ এলাকাবাসী অনেকেই অতিষ্ট। আমাদের বাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়েই একশ বছরের পুরোনো সরকারি রাস্তা থাকলেও দখলদার হাসেম মুন্সী রাস্তা আটকে দেওয়ায় আমরা বাড়ি থেকে সরাসরি রাস্তায় যেতে পারি না। কোন প্রকার মানবতা করেনি সে। এলাকার গণ্যমান্যদের জানিয়েছি তারা বলেন ওর সাথে তুমি পারবা না, ও খারাপ লোক, তুমি গরীব মানুষ। বার বার বলেছি রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য। সে বলে তোমাদের কে সে এই রাস্তা দিয়ে যেতে দেব না, সে আরো বলেছে তুমি যা পারো করিও, পারলে মামলা দিও।’
‘আমি অসহায় হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির দক্ষিণ পাশে খাল দিয়ে নৌকায় করে ঘুরে আসতে হয় সন্তানদের নিয়ে রাস্তায়। আর কত কষ্ট করব, তাই বাড়ি ছেড়ে চকের জমিতে ঘর বানিয়ে জীবন যাপন করছি কিছুদিন ধরে।’
‘তবে আমার ছোট ভাই ঘর সরিয়ে নেওয়ার মত টাকা নাই তাই সে ওই বাড়িতেই রয়ে গেছে। তারও বারো মাস নৌকা দিয়ে বাড়ি থেকে পাড় হতে হচ্ছে। আমরা গরীব তাই কেউ আমাদের দেখে না।’
আরেক ভুক্তভোগী মোঃ মোস্তফা কামাল জানান, ‘আমরা ৩ ভাই প্রবাসে থাকি অনেকদিন। আমরা দেশে না থাকায় হাসেম মুন্সী ক্ষমতার বলে সরকারি রাস্তা দখল করে আমাদের বাপ দাদার আমলের কিনা জায়গার উপর রাস্তা চাপিয়ে দিয়ে সরকারি একশ বছর আগের রাস্তার উপরে সে দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ করেছে। এমনকি তার নিজ বসত বাড়ির ভীতরে আমাদের জায়গা আছে সেটাও দিচ্ছে না।’
এ বিষয়ে তাকে এলাকার মানুষ কিছু বললে তাকে মামলার ভয় সহ নানা ভাবে অত্যাচারে রাখেন।
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জিঠু সাহেব অনেক আগে রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যেগ নিয়ে কিছুটা কাজ করেছে সে সময় রাস্তাটি অবৈধ ভাবে দখল করা না থাকলে রাস্তার কাজ সম্পুর্ন হতো। গত বৃহস্পতিবার নায়েব অফিসের লোকজন এ ব্যাপারে দেখতে এসেছিল। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সামনে ছিল। সে সময়ও রাস্তার বিষয়ে আলোচনায় আবুল হাসেম মুন্সী উত্তেজিত হয় আমাদের কে নানা রকম কথা বার্তা বলেন। একমাত্র তার কারনে বেহাল এ রাস্তাটির ও খালের উপর একটি কাঠের পুল এবং নামি দামি একটি মাদরাসা সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের ২ কি.মি. কাচা রাস্তা সংস্কার হচ্ছে না।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল হোসেন মুন্সী জানান, ‘আমার জায়গার উপর দিয়ে রাস্তা গেছে। আমার বাড়ির পশ্চিমে রাস্তা ছেরেছি। এরপরও আমার জায়গা আছে আমি কারো জায়গা দখল করিনি।’
শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়ন নায়েব নজরুল ইসলাম জানান, ‘সহকারি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তার রিপোর্ট পরবর্তী উধ্বর্তন কতৃপক্ষ দেখে অল্প সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিবে।’
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জিঠু জানান, ‘এটা দীর্ঘদীনের সমস্যা। এক সময় পায়ে হেটে চলা মুশকিল ছিলো। আমরা যুবকরা উদ্যোগ নিয়ে অনেকের ঘরবাড়ি সরিয়ে রাস্তা বের করেছি। কিন্তু এখনো ৮/১০ টি বাড়ি ২/১ ফুট করে রাস্তায় আছে। তাই তাদের কে নিয়ে বসে সমাধানের একটা কথা রয়েছে।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রতন মিয়া জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। এবং শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে ফোনে জানিয়েছে আসলে বহু দিনের সমস্যা এ রাস্তাটি যেভাবে আছে সবাই দখল ছেরে দিলে আমি উধ্বর্তন কতৃপক্ষ কে সংস্কার করার প্রস্তাব করতে পারি।’





