মুন্সিগঞ্জে স্বামী-শশুরবাড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে প্রাণ বিসর্জন গৃহবধূর
মুন্সিগঞ্জ, ১৭ জুন ২০২৫, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ সদরের চরাঞ্চল আধারা ইউনিয়নে স্বামী আশরাফুল রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে গূহবধূ হাশেদা বেগম (২৫) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় অভিযুক্ত স্বামী ও স্বামীর দুই ভাবির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
গত শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে স্বামীর বাড়ি শরআটি গ্রামে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত স্বামী আশরাফুল রহমান সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নে শরআটি গ্রামের নুরুদ্দিন বক্সের ছেলে এবং
নিহত হাশেদা বেগম শিলই ইউনিয়নের শিলই গ্রামের হাসেম ঢালীর মেয়ে।
নিহতের পরিবার ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ বছর আগে পারিবারিকভাবে হাশেদা ও আশরাফুলের বিয়ে হয়। এই দম্পতির পাঁচ বছরের আলিফা নামের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই নিহত হাশেদা বেগমকে তার স্বামী আশরাফুল রহমান ও তার দুই ভাবি বিভিন্ন সময় শারিরীক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো।
২০২৪ সালের কুরবানি ঈদের পর বোনের সুখের জন্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি গরু কিনে দেন নিহত হাশেদা বেগমের ভাই নূর মোহাম্মদ ঢালী। সেই গরু এক বছর লালন-পালন করে এবারের ঈদে বিক্রি করা হয় ২ লাখ ২০ হাজার টাকায়। ঈদের দিন স্বামীর কাছে লাভের টাকা থেকে ভাইয়ের মূল টাকা ফেরত চান হাশেদা বেগম।
কিন্তু সেই টাকা না দিয়ে উল্টো গরু বিক্রির সমস্ত টাকা দিয়ে দেন আশরাফুল তার ভাবীদের কাছে। এ নিয়ে ঝগড়া হয় তাদের। একপর্যায়ে কীটনাশক পান করেন হাশেদা। পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঁচদিন চিকিৎসা নিয়ে বৃহস্পতিবার বাসায় ফিরে আসলেও পরদিন শুক্রবার স্বামীর বাড়িতে মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় ১২ জুন শুক্রবার রাতে নিহতের বর ভাই নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় স্বামী আশরাফুল ও তার বড় দুই ভাবির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তারা এখনো রয়েছেন ধরাছোয়ার বাইরে।
নিহতের ভাবি তাসলিমা আক্তার বলেন, আমার ননদকে মেরে ফেলা হয়েছে। তাকে বাধ্য করা হয়েছে বিষ পানে। ননদের সুখের জন্য প্রথমে তিন ভরি স্বর্ণ, স্টিলের আলমারি ও একটি মিশুক কিনতে টাকা দিয়েছি। তারপর গরু কিনে দিয়েছিলাম। কিন্তু সুখ হলো না। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বামী আশরাফুল রহমান। তিনি বলেন, সে তার বোনের কথা শুনে বিষ পান করেছে। এটার রেকর্ড আমাদের কাছে আছে।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে কীটনাশক পান করে হাশেদা নামের ওই নারী। পরে ঢাকা হাসপাতালে গেলে তারা রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। তার একদিন পর শুক্রবার বিকালে মারা যান তিনি। পরে তার বড় ভাই বাদী হয়ে সদর থানায় স্বামী ও তার দুই ভাবির বিরুদ্ধে মামলা করেন। আমরা আসামি গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’


