মুন্সিগঞ্জে সাড়ে ২৫ কিলোমিটার ৯ খাল খননে ব্যয় ৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা, জুলাইয়ে আসছে ফ্যামিলি কার্ড
47

মুন্সিগঞ্জ, ১৩ মে ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় মুন্সিগঞ্জ জেলায় কৃষি, পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে এবং আরও নানা প্রকল্প পরিকল্পনাধীন রয়েছে। জেলার ৯টি খালের ২৫ দশমিক ৬৯৯ কিলোমিটার পুনঃখননে ব্যয় করা হচ্ছে ৮ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার টাকার বেশি। পর্যায়ক্রমে আরও খাল খননের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি আগামী জুলাই মাস থেকে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় জেলার ৬ উপজেলার উপকারভোগীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান শুরু হতে যাচ্ছে।

আজ বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে “বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বহুমুখী প্রচার কার্যক্রমের আওতায়” আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।

তিনি জানান, জেলার ৯টি খালের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ৩টি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস ৬টি খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে ৭টি খালের কাজ চলমান রয়েছে। কোনো কোনো প্রকল্পের অগ্রগতি ৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ৫২ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। তবে দুইটি খালে পানি জমে থাকায় কাজ এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি। সেক্ষেত্রে নতুন অর্থবছরের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা তথ্য কর্মকর্তা রহিমা আক্তার বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস নারী সমাবেশ, ফ্যামিলি সমাবেশ, কৃষক সমাবেশ, উঠান বৈঠক, কমিউনিটি সভা, অনলাইন প্রচার, পুস্তিকা বিতরণ, পোস্টার স্থাপন, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সড়ক প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নারীর ক্ষমতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারের এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। যথাযথ পরিকল্পনা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এসব কর্মসূচি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের নির্মিত ইশতেহার বাস্তবায়ন বিষয়ক প্রচারচিত্র সাংবাদিকদের প্রদর্শন করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু, সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন, সাবেক সভাপতি শহীদ-ই-হাসান তুহিন, সাংবাদিক শিহাব আহমেদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

কোন খালে কত ব্যয়

টংগিবাড়ী উপজেলার মটুকপুর-সিদ্ধেশ্বরী বাজার খালের ৫ দশমিক ৭৭৬ কিলোমিটার পুনঃখননে ব্যয় হচ্ছে ২ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। প্রকল্পটির কাজ ইতোমধ্যে ৫২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া ৩ দশমিক ৪৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ কমলাঘাট (আব্দুল্লাপুর ইন্টারপুল) ভায়া সোনারং ইউনিয়ন-রহিমগঞ্জ বাজার-আলদি স্টিল ব্রিজ-মাকুহাটি বাজার-টংগিবাড়ী খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ৪ হাজার টাকা। একই উপজেলার ২ দশমিক ৯৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ গাদিঘাট ব্রিজ হতে পুটিমারা খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ ৩ হাজার টাকা। এই তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ।

অন্যদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে— গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দি খালের ২ দশমিক ১০৭ কিলোমিটার পুনঃখননে ব্যয় ৫১ লাখ ৪৯ হাজার ৬৯৫ টাকা।

শ্রীনগর উপজেলার শ্রীনগর ফেরিঘাট সংলগ্ন ব্রিজের পূর্ব দিক থেকে উত্তর দিকে যমদুয়ারী খাল হয়ে মাসুরগাঁও, উত্তর পাইকসা, হোগলাগাঁও ও নাগরভোগ পর্যন্ত ৫ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬১ টাকা। তবে খালে ৪ থেকে ৫ ফুট পানি থাকায় চলতি অর্থবছরে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

একই উপজেলার উত্তর রাড়ীখাল এলাকায় দুলাল শেখের বাড়ির পাশ থেকে আড়িয়াল বিল পর্যন্ত শূন্য দশমিক ৫৩৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হচ্ছে ১৩ লাখ ২৩ হাজার ৬২১ টাকা। প্রকল্পটির ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

টংগিবাড়ী উপজেলার কুকরাদি খালের ১ দশমিক ২০ কিলোমিটার পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ লাখ ৭৮ হাজার ১২ টাকা। প্রকল্পটির ২২ শতাংশ কাজ দৃশ্যমান হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব ফুলতলা রজতরেখা নদী থেকে মেঘনা নদী পর্যন্ত ২ দশমিক ৯৫০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননে সম্ভাব্য ব্যয় ১ কোটি ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৬৪২ টাকা। অতিরিক্ত পানির কারণে এখানে এখনো কাজ শুরু করা যায়নি।

সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া খালের দানিয়াপাড়া ব্রিজ থেকে মোতার জাহান বাড়ির দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত ১ দশমিক ২০০ কিলোমিটার পুনঃখননে সম্ভাব্য ব্যয় ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ১২ টাকা। এ প্রকল্পের অগ্রগতি ২০ শতাংশ।

জুলাই থেকে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বড় উদ্যোগ হিসেবে আগামী জুলাই ২০২৬ থেকে মুন্সিগঞ্জে চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম। এই কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের তালিকাভুক্ত নারী সদস্যরা মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন।

ইতোমধ্যে এ কর্মসূচির ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং সমাজসেবা অধিদপ্তর বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে এখনো উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত হয়নি।

এছাড়া কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমও শিগগিরই শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জেলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা

পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে মুন্সিগঞ্জে আগামী ১৮০ দিনে ১ লাখ ১২ হাজার ৪০০টি চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এর আওতায় জেলার ২টি পৌরসভায় প্রতিটিতে ১ হাজারটি, ৬টি উপজেলার প্রতিটিতে ৫০০টি এবং ৬৮টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০০টি করে চারা রোপণ করা হবে।

এছাড়া নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ‘নারীর জন্য গাড়ি’ নামে বিশেষ পরিবহন সুবিধা চালুর নীতিমালা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

শ্রীনগরশ্রীনগর সিরাজদিখানসিরাজদিখান টংগিবাড়ীটংগিবাড়ী সদরসদর গজারিয়াগজারিয়া লৌহজংলৌহজং মুন্সিগঞ্জ