১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মঙ্গলবার | ভোর ৫:১৮
মুন্সিগঞ্জে প্রবাসীকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার চেষ্টা: গণধোলাই, মোটরসাইকেল-গুলি উদ্ধার
খবরটি শেয়ার করুন:
150

মুন্সিগঞ্জ, ১৯ জুলাই ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)

মুন্সিগঞ্জ সদরের রামপাল ইউনিয়নের দক্ষিণ সুখবাসপুর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে ১৫-২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে এক প্রবাসীকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুপুরে ওই প্রবাসীর মায়ের মৃত্যুর ৪ দিন উপলক্ষে জিয়াফত অনুষ্ঠান ছিলো। সেই শোক কাটিয়ে না উঠতেই ঘটে যায় আরেক লঙ্কাকাণ্ড

এসময় মসজিদের মাইকে বিষয়টি গ্রামবাসীকে জানালে সেখানে শতাধিক লোকজন জড়ো হন। পরে গণধোলাইয়ের স্বীকার হন অভিযুক্তরা। পুড়িয়ে দেয়া হয় একাধিক মোটরসাইকেল।  জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ৪টি মোটরসাইকেল, ১ রাউন্ড গুলি, ১টি চাকুসহ দুইজনকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- পৌরসভার মাঠপাড়া এলাকার শাহজালাল (৪০) ও দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার মো. রানা (৩৫)। আজ তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হলে জেলহাজতে পাঠান বিচারক।

গতকাল শুক্রবার রাত নয়টার দিকে এসব ঘটনা ঘটে। পরে আজ শনিবার এ ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় বাদী হয়ে অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ এনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী সিঙ্গাপুর প্রবাসী রুবেল শেখের স্ত্রী ফাহিজা আক্তার।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজীব দে মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীদের সাথে অভিযুক্তদের বিরোধের শুরু হয় গত ১৫ জুলাই মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। এদিন প্রবাসী রুবেল শেখের স্ত্রী ফাহিজা আক্তার তার অসুস্থ শাশুড়িকে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে টিকেট কাটানোর জন্য লাইনে দাড়ালে এক ছেলের সাথে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় স্বামী রুবেল শেখ বাঁধা দিলে মারধরের স্বীকার হন তিনি। এসময় ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওই যুবক। সেদিন রুবেল বিষয়টি তার শ্বশুর বাড়ি উত্তর ইসলামপুরের লোকজনকে জানান। রাতে ঢাকায় রুবেলের মা মৃত্যুবরণ করেন।

গতকাল শুক্রবার মায়ের মৃত্যুর ৪দিন উপলক্ষে বাড়িতে জিয়াফত অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিলো। সারাদিন নানা ব্যস্ততার পর রাতে সবাই যখন বিশ্রাম নিতে ঘরে ফিরে আসেন তখনই ঘটে লঙ্কাকাণ্ড।

২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে দক্ষিণ সুখবাসপুর এলাকায় রুবেলের বাড়ি ঘিরে ফেলে সংঘবদ্ধ একটি দল। পরে তারা রুবেলের বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে তাকে বের করে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় ধস্তাধস্তিতে বাড়িতে থাকা রুবেলের বোনসহ শিশুরা আহত হন।

পরে এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের ফোনে বিষয়টি জানানো হলে তারা মসজিদের মাইক দিয়ে এলাকায় ‘ডাকাত’ পড়েছে বলে ঘোষণা দিলে লোকজন জড়ো হয়ে তাদের প্রতিহত করে। বাধ্য হয়ে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা। এসময় তারা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি করেন। এর মধ্যে দুইজনকে আটক করে গণধোলাই দেয় এলাকাবাসী। পরে খবর পেয়ে তাদের আটক করে হাতিমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের টহল টিম।

ফেইসবুকে আমরা
ইউটিউবে আমরা