মুন্সিগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু, পরিবার কথা বললেও মুখ খুলছে না সাথে থাকা বন্ধুরা
মুন্সিগঞ্জ, ২২ মে ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় বেড়াতে এসে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তবে শোকাহত পরিবারগুলো ঘটনার বর্ণনা দিলেও, ঘটনাস্থলে থাকা বন্ধুদের নীরবতা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। হাসপাতাল, থানা ও বাড়িতে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৫টার দিকে পশ্চিম দেওভোগ এলাকার হাজী বাড়ির পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, পশ্চিম দেওভোগ এলাকার মৃত মোস্তাকুর রহমানের ছেলে মো. সোপান (২৪) এবং ঢাকার মিরপুর-১৩ এলাকার মেজর মুকিবের ছেলে আজওয়াদ (২৩)। তারা দুজনেই BRAC University–এর সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ১৩ বন্ধু পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় সোপানদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। দুপুরে সবাই একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে কয়েকজন পুকুরে গোসল করতে নামেন। এসময় পা পিছলে আজওয়াদ পানির গভীরে চলে গেলে তাকে উদ্ধারে যান সোপান। একপর্যায়ে দুজনই পানিতে তলিয়ে যান। পরে বাড়ির ছাদ থেকে বিষয়টি দেখতে পেয়ে অন্য বন্ধুরা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহত সোপানের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে আগেই বলেছিল বন্ধুদের নিয়ে আসবে। আমি তাই ওদের জন্য রান্না করি। দুপুরে সবাই খাওয়াদাওয়া করার পর আমি পাশের বাড়িতে যাই। এসময় তারা পুকুরে নামে। আমার আদরের ছেলেটা হারিয়ে গেল।
মৃত সোপানের স্বজন মো. এনামুল বলেন, আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমরা মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করতে চাই।
অন্যদিকে নিহত আজওয়াদের বাবা মেজর মুকিব বলেন, আমার ছেলে সাঁতার জানত। সে কীভাবে এই পানিতে পড়ে মারা গেল, তা বুঝতে পারছি না। তবে আমার কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই।
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. ইউসুফ আলী সরকার জানান, বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে মৃত অবস্থায় দুইজনকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে দেখে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ধারণা করা হচ্ছে। তবে একজনের নাক ও মুখে রক্ত ছিল। তাই মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. কামরান হাসান বলেন, বন্ধুরা বেড়াতে এসে গোসল করতে নেমেছিল। একজন ডুবে গেলে অপরজন উদ্ধার করতে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে সাথে থাকা বন্ধুদের আচরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিকেল ৫টার পরপর মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে মরদেহ আনার পর কয়েক দফা তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তবে কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হননি। উল্টো কয়েক দফায় সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরে রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সদর থানায় অবস্থান করেও তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। সেখানেও সবাই গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে যান।
এরপর রাত ১০টার দিকে পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় নিহত সোপানের বাড়িতে গেলে সাথে থাকা আরেক বন্ধু সায়ের সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে আসেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান।





