মুন্সিগঞ্জে জেলের চাঁইয়ে ধরা পড়লো বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ
মুন্সিগঞ্জ, ৫ জুলাই, ২০২০, সদর প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ সদরের বাংলাবাজার এলাকায় জেলেদের চাঁইয়ে (মাছ ধরার ফাঁদ) ধরা পড়েছে “কিলিং মেশিন” নামে পরিচিত বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ। উল্লেখ্য, অত্যন্ত বিষধর হওয়ায় সাপটিকে এই নামে ডাকা হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে সদর উপজেলার সর্দারকান্দি গ্রামের জেলে আবুল হুসেন (১৮) এর চাঁইয়ে সাপটি ধরা পড়ে বলে জানান স্থানীয়রা। এ নিয়ে চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো মুন্সিগঞ্জে রাসেলস ভাইপারের দেখা মিললো।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহিন বলেন, “নদীতে পেতে রাখা চাঁই তুলতে গেলে ভেতরে সাপটিকে দেখতে পান ওই জেলে। ভয় পেয়ে তিনি এক প্রতিবেশিকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। পরে তারা দু’জনে মিলে চাঁইয়ে বন্দি সাপটিকে বাড়িতে নিয়ে যান।”
দুর্লভ প্রজাতির বিষাক্ত সাপ আটকের খবরে গ্রামবাসী জেলে আবুল হুসেনের বাড়িতে ভিড় জমায় বলে জানান শাহিন।
তিনি আরও বলেন, “সাপটির আকার-আকৃতি দেখে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত যে এটা রাসেলস ভাইপার। স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের খবর দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসী বেশ আতঙ্কে আছে। দ্রুত সাপটির একটি ব্যবস্থা হওয়া দরকার।”
এদিকে, সাপটি রাসেলস ভাইপারই কি না তা নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলার সঙ্গে। ছবি দেখে তিনি জানান, সাপটি রাসেল ভাইপারই।
তিনি বলেন, “রাসেলস ভাইপার বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। অন্যান্য সাপ মানুষকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও এ সাপটি স্বভাব ঠিক তার উল্টো, এটি ধাওয়া করে মানুষকে আক্রমণ করে। তাই প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ কেবল এ সাপটির কামড়েই প্রাণ হারান। আক্রমণের ক্ষিপ্র গতি ও বিষের তীব্রতার কারণে ‘কিলিং মেশিন’ হিসেবে বদনাম রয়েছে সাপটির।”
প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছরের ২৬ নভেম্বর মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের বেজগাঁও ইউনিয়নের বেজগাঁও গ্রাম থেকে একটি এবং এর আগে একই বছরের ২৮ এপ্রিল লৌহজংয়ের ঘোড়াদৌড় বাজারের গৌতম কুমার সাহার বাড়ি থেকে আরেকটি রাসেলস ভাইপার উদ্ধার করা হয়েছিল।





