মুন্সিগঞ্জে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, বিএনপির বিদ্রোহীসহ জামানত হারিয়েছেন ১২ প্রার্থী
মুন্সিগঞ্জ, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে তার জামানত রক্ষা করতে হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ (১/৮) বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে। তানাহলে জামানত বাবদ জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সকল প্রার্থীকে এই ৫০ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনে মোট ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে- এর মধ্যে ১২ জন প্রার্থেই তাদের জামানত হারিয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জ ১
মুন্সিগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনে প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। এর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ৪ জন। এখানে মোট বৈধ প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭২টি। অর্থাৎ জামানত রক্ষার জন্য প্রার্থীদের এখানে দরকার ছিলো ৩৯,৫২১ ভোট। এই আসনে ভোট পড়েছে মোট ভোটারের ৫৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
কিন্তু কাস্তে প্রতীকের আব্দুর রহমান পেয়েছেন- ৪৪৩ ভোট, আপেল প্রতীকের রোকেয়া আক্তার পান ৩২০ ভোট, হাতপাখা প্রতীকের মো. আতিকুর রহমান খান পান ৯ হাজার ৩৯ ভোট এবং ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মমিন আলী পান ৩০ হাজার ৬৭৮ ভোট।
ফলে তারা জামানত হারিয়েছেন।
এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এ কে এম ফখরুদ্দিন রাজী ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৮ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেন। বিপুল ভোটে বিজয়ী হন ধানের শীষ প্রতীকের শেখ মো. আব্দুল্লাহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬২ ভোট।
মুন্সিগঞ্জ ২
মুন্সিগঞ্জ-২ (টংগিবাড়ী-লৌহজং) আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত হারান। এখানে মোট বৈধ প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ২ হাজার ১৭৩টি। অর্থাৎ জামানত রক্ষার জন্য প্রার্থীদের এখানে দরকার ছিলো ২৫,২৭১ ভোট। এই আসনে ভোট পড়েছে মোট ভোটারের ৫৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।
কিন্তু চেয়ার প্রতীকের আশিক মাহমুদ পেয়েছেন ৬৫১ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের নোমান হোসেন পান ২ হাজার ৮৫৭ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীকের কে এম বিল্লাল পান ১৩ হাজার ৩৮৭ ভোট।
ফলে তারা জামানত হারিয়েছেন।
শাপলা কলি প্রতীকের মাজেদুল ইসলাম একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ৫৮ হাজার ৫৭৩ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেন। এ আসনে বিজয়ী হন ধানের শীষ প্রতীকের আব্দুস সালাম আজাদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ১৫৪ ভোট।
মুন্সিগঞ্জ ৩
মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জামানত হারান। এখানে মোট বৈধ প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৭৬ হাজার ৫১টি। অর্থাৎ জামানত রক্ষার জন্য প্রার্থীদের এখানে দরকার ছিলো ৩৪,৫০৬ ভোট। এই আসনে ভোট পড়েছে মোট ভোটারের ৫৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
কিন্তু আনারস প্রতীকের আনিছ মোল্লা পান ২৯৪ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের এ এফ এম আরিফুজ্জামান দিদার পান ৮০৪ ভোট, কাস্তে প্রতীকের শেখ মো. কামাল হোসেন পান ৩০৪ ভোট, কোদাল প্রতীকের শেখ মো. শিমুল পান ১৭৪ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীকের সুমন দেওয়ান পান ৬ হাজার ৩৯২ ভোট।
ফলে তারা জামানত হারিয়েছেন।
ফুটবল প্রতীকের মো. মহিউদ্দিন ৮৮ হাজার ৯৩৬ ভোট এবং রিকশা প্রতীকের নুর হোসাইন নুরানী ৫৪ হাজার ৪৫৬ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেন। এ আসনে বিজয়ী হন ধানের শীষ প্রতীকের মো. কামরুজ্জামান রতন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৯১ ভোট।


