মুন্সিগঞ্জে চায়ের দোকানের ৩০০ টাকার বিল রাতারাতি হয়ে গেল ৫৫ হাজার টাকা
মুন্সিগঞ্জ, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
“এটা বিল না, এটা তো আমার কবরের টিকিট!” – হাতে ৫৫ হাজার ৫৫০ টাকার বিদ্যুৎ বিল ধরে কাঁপা গলায় বলছিলেন লিটুখান বাজারের চায়ের দোকানি বাদশা বেপারী। তার দোকানে শুধু একটা বাতি আর একটা ফ্যান। মাসে বিল আসত ২০০-৩০০ টাকা। হঠাৎ যেন আকাশ থেকে বজ্রপাত!
পাশের খাবারের দোকানি শহীদ খানের অবস্থাও একই। দুটো বাতি, একটা ফ্যান, একটা ছোট ফ্রিজ– মাসে বিল ৬০০-৮০০ টাকা। কিন্তু এবারের বিল এসেছে ২৪ হাজার ২১৬ টাকা! বিলের কাগজ হাতে নিয়েই মাটিতে বসে পড়েন তিনি। চোখে অন্ধকার দেখছেন। বললেন, “আমার দোকান বন্ধ হয়ে গেলে বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে রাস্তায় বসবো!”
মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের লিটুখান বাজারজুড়ে এখন একটাই কথা – “বিদ্যুতের ভূত নেমেছে!”
কয়েক মাস ধরেই লিটুখান বাজারে এমন ‘অলৌকিক’ বিল আসছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, “মিটারে যা দেখাচ্ছে আর বিলে যা আসছে, তার কোনো মিল নেই। এটা স্পষ্ট জালিয়াতি!”
বিল তৈরির কর্মী সুমি রানী দাস বলছেন, “অফিসে আসেন, দেখবো।”
কিন্তু দোকানিরা বলছেন, “অফিসে গেলে কী হবে? আমাদের তো এখনই শেষ করে দেওয়া হচ্ছে!”
টংগিবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আব্দুস ছালাম বলেছেন, “তদন্ত করে সমাধান করা হবে।”
কিন্তু বাদশা-শহীদদের প্রশ্ন একটাই – “এই ভুতুড়ে বিলের দায় কে নেবে? আমাদের সর্বনাশের আগেই কি কেউ এগিয়ে আসবে?”


