মুন্সিগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশসহ টেটাবিদ্ধ ৬ জন
মুন্সিগঞ্জ, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, নিজস্ব প্রতিবেদক (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৬ জন টেটাবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল দশটার দিকে উপজেলা লতব্দী ইউনিয়নের কংশপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে লতব্দী ইউনিয়নের কংশপুরা গ্রামের খলিলুর রহমানের সঙ্গে পূর্ব রামকৃষ্ণদি গ্রামের মো.জহিরের সাথে হাউজিং ও মাটি কাটার ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে আজ সকালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায় । সংঘর্ষ চলাকালে টেটা, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং একাধিক ঘরে লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তারা আরও জানায়, খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে এ সময় উপ-পরিদর্শক হাফিজুর রহমানসহ অন্তত ৬ টেটাবিদ্ধ হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খলিলুর রহমান জানান, মাটি কাটতে বাধা দেওয়ায় আজ সকালে জহির লোকবল নিয়ে আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং স্বর্ণালংকার লুটপাট করেছে। আমার কয়েকজন টেটাবিদ্ধ হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মো. জহির বলেন, আমার সঙ্গে তার ঝামেলা হয়েছিল অনেক আগে, আজকের ঘটনাটি আমার সঙ্গে হয়নি, এটা হয়েছে কংশপুরা গ্রামের খলিল আর দেওয়ানবাড়ির লোকের মধ্যে।
লতব্দী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান, মো. শামসুদ্দীন খোকন বলেন, মূলত ড্রেজার মেশিন দিয়ে জমি ভরাট নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই বিবাদ চলছিল। আজকে বেশ কয়েকজন টেটাবিদ্ধও হয়েছে।
সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ হান্নান জানান, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। কয়েকজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


